খুশু-খুজু বা নামাজে একাগ্রতা



 খুশু-খুজু  বা নামাজে একাগ্রতা

📚মুকাশাফাতুল কুলুব ✍🏻 হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

———————

নামাযের পূর্ণাঙ্গতা বিনম্ন আত্মসমর্পণ ও একাগ্রতার মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণাঙ্গ সুন্দর ও প্রাণবন্ত করার নাম খুশু-খুজু। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন   : 

>“মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী-নম্র”। (মুমিনূন  : ১,২ ) 

আয়াতে উল্লেখিত ‘খুশু’র ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেছেন, — ‘এটা আত্মার সাথে সম্পর্কিত আমল। যেমন ভয় ও শঙ্কা’র সম্পর্ক আত্মার সাথে, তেমনি খুশুও একটি আত্মিক আমল। 

আবার কেউ কেউ খুশুকে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে যুক্ত করে এটাকে বাহ্যিক আমল বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন, -শারীরিক স্থিরতা-ধীরতা, এদিক-সেদিক দৃষ্টি না করা, অহেতুক অঙ্গ সঞ্চালন থেকে বিরত থাকা; নামাযের ভিতর এগুলো বাহ্যিক আমলের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। অনুরূপ, আরও কেউ কেউ বলেছেন, নামাযের জন্য খুশু’র প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, অর্থাৎ এটা একান্ত ফরয পর্যায়ের বিষয়। অপরদিকে কেউ কেউ খুশুকে নামাযের জন্য ফযীলত ও মুস্তাহাব বলে অভিহিত করেছেন। ফরয আখ্যাদানকারীগণ দলীল হিসাবে যে হাদীসখানি পেশ করে থাকেন, তা’ হচ্ছে, - 

>“নামাযের যতটুকু অংশ বান্দা উপলব্ধি করে আদায় করে, ততটুকু অংশই তার কবুল করা হয়”। 

অনুরূপ এ আয়াতটিও উল্লেখ করেছেন  : 

>“এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর”। (তোয়াহা ১৪) আল্লাহর যিকর করতে হলে যেহেতু গাফলতি ও অবহেলা পরিহার করতে হবে, তাই ইরশাদ হয়েছে : 

>“এবং গাফেলদের দলভুক্ত হয়ো না” (আ'রাফ  : ২০৫ ) 

ইমাম বায়হাক্কী (রহঃ) মুহাম্মদ ইব্‌নে সীরীন (রহঃ) থেকে রেওয়ায়াত করেছেন যে, উক্ত আয়াতের শানে নুযূল হচ্ছে, - নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নামাযে আকাশের দিকে দৃষ্টি উঁচু করে দেখতেন, তাই এ আয়াতে তা’ নিষেধ করা হয়েছে। মুসনাদে আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে অতিরিক্ত এ অংশটুকুও রয়েছে - ‘অতঃপর তাঁকে নামাযে ‘খুশু’ অবলম্বন করার হুকুম করা হয়েছে। সেজন্যে তিনি নামাযে দৃষ্টিকে সিজদা'র স্থানে নিবন্ধ করে রাখতেন’। হাকেম ও বায়হাক্বী হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (রঃ) থেকে রেওয়ায়াত করেন,  

“নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাযে দৃষ্টিকে আকাশ পানে উঁচু করার প্রেক্ষিতে আয়াতখানি নাযিল হয়; তারপর থেকে তিনি দৃষ্টি নীচু করে নিয়েছেন। 

হযরত হাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন : “পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উদাহরণ হচ্ছে এরূপ যে, “তোমাদের কারো বাড়ীর সম্মুখে যদি একটি নহর থাকে এবং তাতে প্রচুর পানি থাকে, সেখানে দৈনিক পাঁচবার যদি সে গোসল করে, তা’ হলে তার শরীরে কি সামান্যতম ময়লাও বাকী থাকবে?” অর্থাৎ, –নামায আদায়ের দ্বারা মানুষ পাপের পঙ্কিলতা হতে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে যায়; কবীরা গুনাহ্ ব্যতীত সর্বপ্রকার গুনাহ্ মাফ হয়ে যায়। নামাযের এ মর্যাদা হাসিল করতে হলে বিনম্র আত্মসমর্পণ ও নিষ্ঠার সাথে নামায আদায় করতে হবে। নামাযে অস্তরকে হাজির রাখতে হবে। অন্যথায় এই নামায - নামায পাঠকারীর মুখে নিক্ষেপ করা হবে ।


হুযুর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন  

>“যে ব্যক্তি দুনিয়ার চিন্তা ধান্দা হতে মুক্ত ও পবিত্র অস্তর নিয়ে দু'রাকাত নামায পড়বে, আল্লাহ্ তা'আলা তার অতীতের সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দিবেন"।  অন্য এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, - 

>“নামায, হজ্জ, তওয়াফ এবং হজ্জের অন্যান্য বিধানাবলী ইত্যাদি ইবাদত এজন্যে দেওয়া হয়েছে যে, এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলাকে স্মরণ করা হবে; কিন্তু এগুলো পালন করতে সময় যে মহান সত্তাকে স্মরণ করা উদ্দেশ্য, যদি তাঁকে স্মরণ না করা হয়, তা’ হলে এই যিকর ও ইবাদত অর্থহীন বস্তুতে পর্যবসিত হয়”।

হুযূর আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও ইরশাদ করেন  : 

>“যে ব্যক্তির নামায তাকে অশ্লীলতা ও অপছন্দনীয় কার্য হতে বিরত রাখতে পারলো না, সে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য হতে ক্রমেই সরে যাচ্ছে”। 

হযরত আবূ বকর ইবনে আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেছেনঃ “তুমি যদি বিনা অনুমতিতে এবং কোন দুভাষী ছাড়াই তোমার মাওলার কাছে যেতে ইচ্ছা কর, তা’ হলে যেতে পারো'। জিজ্ঞাসা করা হলো, এটা কি করে সম্ভব? তিনি বললেন, - ‘সুন্দরভাবে পরিপূর্ণরূপে উযু করে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে যাও; এভাবে তুমি অনুমতি ছাড়াই মাওলার দরবারে প্রবেশ করলে, অতঃপর (নামাযের ক্বিরাআত ও যিকর-তসবীহের মাধ্যমে) দু'ভাষী ছাড়া কথা বল”।

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, -“অনেক সময় এমন হতো যে, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) আমাদের সাথে কথাবার্তায় মগ্ন রয়েছেন : এবং আমরাও তার সাথে কথাবার্তায় মগ্ন রয়েছি; ইতিমধ্যে নামাযের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন হুযূরের অবস্থা এমন হতো, যেন তিনি আমাদেরকে চিনেন না এবং আমরাও তাকে চিনি না; আল্লাহ্ তা'আলার আজমত ও প্রতাপ তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলতো”।

রসুল আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ 

>“নামাযে দণ্ডায়মান হওয়ার পর বান্দার শরীর যেমন উপস্থিত থাকে, তার অস্তরও যদি অনুরূপ উপস্থিত না থাকে, তা’ হলে আল্লাহ্ তা'আলা এরূপ নামাযের প্রতি মোটেও দৃষ্টিপাত করেন না”।

হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম নামাযে দণ্ডায়মান হওয়ার পর ভয়ে এতই কম্পমান হতেন যে, দূর থেকে তাঁর হৃদপিণ্ডের কম্পন শোনা যেতো। হযরত সাঈদ তানূখী (রহঃ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন অবারিত অশ্রু তার গণ্ডদেশ প্রবাহিত হয়ে শ্মশ্রুতে পৌছতো।


একদা এক ব্যক্তিকে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম নামায রত অবস্থায় দাড়ি সঞ্চালন করতে দেখে বলেছেন, - 

>“যদি এ ব্যক্তির অস্তরে খুশু ও একাগ্রতা থাকতো, তা হলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও স্থির - থাকতো”। বর্ণিত আছে, - হযরত আলী (রঃ) যখন নামাযে দাড়াতেন, তখন তিনি ভয়ে কম্পমান হতেন এবং মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যেতো। একদা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, - “হে আমীরুল মুমেনীন ! নামাযে আপনার এ অবস্থা হয় কেন?”  তিনি বলেছেন : “তখন আল্লাহ্ তা'আলার সেই আমানত আদায়ের সময় এসে যায়, যে আমানত বহন করতে আসমান, যমীন ও পর্বতসমূহ অস্বীকার করেছে; অথচ আমি তা বহন করেছি”। হযরত আলী ইবনে হুসাইন সম্পর্কে বর্ণিত আছে, —তিনি যখন উযূ করতেন, তখন তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো। লোকজন এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন, - 

>“তোমরা কি জাননা যে, এরপর আমি কার দরবারে দণ্ডায়মান হবো?” 

হযরত হাতেম আসাম্ম (রহঃ)-কে তার নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছেন  : “যখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন আমি পরিপূর্ণরূপে উযু সম্পন্ন করি। অতঃপর জায়নামাযে এসে কিছুক্ষণ স্থির-ধীরভাবে অপেক্ষা করি। এভাবে সম্পূর্ণ শাস্ত হওয়ার পর নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হই। তখন আমার অবস্থা এই হয় যে, অস্তরে আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে ধ্যান করি যে, আল্লাহ্র পবিত্র ঘর কা'বা শরীফ আমার সম্মুখ, পুলসিরাত আমার নীচে, বেহেশ্ত আমার ডান পার্শ্বে, দোযখ আমার বামে এবং মৃত্যুর ফেরেশ্তা আযরাঈল আমার পিছনে। সেইসঙ্গে আমি এ কথাও অস্তরে দৃঢ়বদ্ধ করে নেই যে, এ নামাযই আমার জীবনের শেষ নামায, এর পরেই আমার মৃত্যু। অতঃপর আর নামাযের সুযোগ হবে না। এই ধ্যানমগ্নতা সহকারে আমি আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশার মধ্যবর্তী স্তরে থেকে নেহায়েত একাগ্রতার সাথে  ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামায আরম্ভ করি। অতঃপর অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধীর-স্থিরভাবে ক্বিরাআত পড়ি। রুকু  অত্যন্ত বিনয়ের সাথে করি। সিজদায় পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও নিষ্ঠা অবলম্বন করি। বাম নিতম্বে উপবেশন করি, বাম পা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রেখে অঙ্গুলি কেবলার দিকে ফিরিয়ে রাখি এবং অস্তরে পরিপূর্ণ এখলাস ও আল্লাহর ভয় জাগরুক রাখি। এরপরেও আমি বলতে পারি না যে, আমার নামায আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কিনা?” 


হযরত ইবনে আব্বাস (রঃ) বলেন, – “আন্তরিক নিষ্ঠা ও ধ্যান সহকারে উপলব্ধি করে দুই রাকাত নামায পড়া গাফেল ও অন্যমনস্ক অবস্থায় সারা রাত্র নামায পড়ার চাইতে উত্তম”।

হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ 

>“আখেরী যমানায় আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক এমন হবে, যারা মসজিদে উপস্থিত হবে; কিন্তু সেখানে মজলিস অনুষ্ঠান করে তারা দুনিয়াবী আলোচনায় লিপ্ত হবে; অস্তরে তাদের থাকবে দুনিয়ার মহব্বত। খবরদার ! এসব লোকের সংস্পর্শে যেয়ো না। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট”।


হযরত হাসান (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, - হুযূর পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : 'আমি কি তোমাদেরকে বলবো যে, দুনিয়াতে নিকৃষ্টতম চোর কে ? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহ্’র রাসুল ! অবশ্যই আপনি আমাদেরকে এ কথা বলে দিন। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) বললেন  : 

>“সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নামাযে চুরি করে”।  সাহাবীগণ আরজ করলেন, “নামাযে চুরি করা হয় কিভাবে ?” - আল্লাহর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) বললেন “রুকু ও সিজদা পরিপূর্ণভাবে আদায় না করাই নামাযে চুরি করা”। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামায পরিত্যাগকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি কেউ পরিপূর্ণভাবে নামায আদায় করে থাকে তা’ হলে তার অন্যান্য বিষয়ের হিসাব সহজ করা হবে। আর যদি ফরয নামাযে কোন ত্রুটি থাকে, তা’ হলে আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ, - আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কিনা; সেগুলো দিয়ে তার ফরয নামাযের ত্রুটি মুছে দাও।


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন  : 

>”বান্দার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট নেয়ামত হচ্ছে, দুই রাকাত নামাযের তওফীক হওয়া”।  হযরত উমর (রঃ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন , তখন তাঁর পাজর কাঁপতে থাকতো এবং উপর ও নীচের দাতগুলো পরষ্পর শব্দিত হতে থাকতো। তাঁকে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে বলতেন, “আল্লাহ্র আমানত আদায় করার সময় এসে গেছে, জানিনা এই আমানত আমি কিভাবে আদায় করবো”।

 খলফ ইব্‌নে আইয়ূব (রহঃ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, –একদা তিনি নামায আরম্ভ করার পর তাঁকে ভীমরুল দংশন করেছিল। ফলে, দংশিত স্থান থেকে রক্ত নির্গত হয়; কিন্তু তিনি তা’ মোটেও অনুভব করতে পারেন নাই। অবশেষে ইব্‌নে সাঈদ এসে তাঁকে জানালে তিনি কাপড় ধৌত করে নেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ' আপনাকে ভীমরুল দংশন করছিল এবং রক্তও প্রবাহিত হচ্ছিল; অথচ আপনি তা মোটেও অনুভব করতে পারেন নাই, এর কারণ কি ? তিনি বলেছেন, — “যে ব্যক্তি মহা পরাক্রমশালী সত্তার সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়, পিছনে যার মৃত্যুর ফেরেশ্তা বিরাজমান থাকে, বামে থাকে যার দোযখ আর ডানে থাকে বেহেশত এবং পা থাকে পুলসিরাতের উপর, সে-কি এসব বিষয় কখনও অনুভব করতে পারে ?" 

হযরত ইব্‌নে যর (রহঃ) এর হাতে ফোড়া হয়েছিল । আধ্যাত্ম জগতে তিনি ছিলেন অতি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। চিকিৎসকগণ বলেছিল, - “এই মারাত্মক ফোঁড়া হতে নিষ্কৃতি পেতে হলে আপনার হাত কেটে ফেলে দিতে হবে। তিনি অনুমতি দিয়েছিলেন। চিকিৎসকগণ বলেছে - ' তা’ হলে আপনাকে দড়ি দিয়ে উত্তমরূপে বেঁধে নিতে হবে, নতুবা আপনি অসহনীয় কষ্টে ছুটাছুটি করবেন এবং এতে মারাত্মক ক্ষতি হবে। “তিনি বলেছেন, –না, এসব কিছুর প্রয়োজন নাই; আমি যখন নামায আরম্ভ করি, তখন তোমরা আমার হাত কেটে নিও”।  অতঃপর নামাযরত অবস্থায় তাঁর হাত কাটা হয়েছে এবং তিনি তা’ মোটেও অনুভব করেন নাই। 

(সমাপ্ত)

মুকাশাফাতুল কুলুব

*************

#নামাজ

#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক