Posts

Showing posts from June, 2023

খুশু-খুজু বা নামাজে একাগ্রতা

Image
 খুশু-খুজু  বা নামাজে একাগ্রতা 📚মুকাশাফাতুল কুলুব ✍🏻 হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ——————— নামাযের পূর্ণাঙ্গতা বিনম্ন আত্মসমর্পণ ও একাগ্রতার মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণাঙ্গ সুন্দর ও প্রাণবন্ত করার নাম খুশু-খুজু। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন   :  >“মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী-নম্র”। (মুমিনূন  : ১,২ )  আয়াতে উল্লেখিত ‘খুশু’র ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেছেন, — ‘এটা আত্মার সাথে সম্পর্কিত আমল। যেমন ভয় ও শঙ্কা’র সম্পর্ক আত্মার সাথে, তেমনি খুশুও একটি আত্মিক আমল।  আবার কেউ কেউ খুশুকে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে যুক্ত করে এটাকে বাহ্যিক আমল বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন, -শারীরিক স্থিরতা-ধীরতা, এদিক-সেদিক দৃষ্টি না করা, অহেতুক অঙ্গ সঞ্চালন থেকে বিরত থাকা; নামাযের ভিতর এগুলো বাহ্যিক আমলের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। অনুরূপ, আরও কেউ কেউ বলেছেন, নামাযের জন্য খুশু’র প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, অর্থাৎ এটা একান্ত ফরয পর্যায়ের বিষয়। অপরদিকে কেউ কেউ খুশুকে নামাযের জন্য ফযীলত ও মুস্তাহাব বলে অভিহিত করেছেন। ফরয আখ্যাদানকারীগণ দলীল হিসাবে যে হাদীসখানি...

তওবার মকাম (পর্ব- ৮) দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্তির অর্থ কি?

Image
       তওবার মকাম  (পর্ব-  ৮) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্তির অর্থ কি? দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্তি বলতে কি বোঝায় এবং তার খাঁটি রূপই বা কি— এক্ষণে তা-ই আলোচনা করা যাক। আমাদের উলামায়ে কিরামের নিকট উহা দুই প্রকার।  এক প্রকারের নিরাসক্তি প্রদর্শনের ক্ষমতা মানুষের আওতাধীন, ইচ্ছা করলে সে তা কার্যকর করতে সক্ষম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারটি মানুষের ক্ষমতার বাইরে। মানুষের আয়ত্তাধীন নিরাসক্তি তিন রকমে কার্যকর হতে পারে - প্রথমত, যা নেই, তাকে পাওয়ার চেষ্টা ত্যাগ করা। দ্বিতীয়ত, যা কিছু জমা হয়েছে, তা পৃথক করে দেয়া এবং তৃতীয়ত, সে সবের প্রতি সকল আকাঙ্ক্ষা ও কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা। এরপর আসে মানুষের ক্ষমতার বাইরে থেকে যে নিরাসক্তি সৃষ্টি হয়, তার কথা। এ অবস্থাটি মানুষের মনে কোন একটি বিষয়ে সন্তুষ্টির ভাব সৃষ্টি করে দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, মানুষের আয়ত্তাধীন যে কাজটুকু তাকেই দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্তি সৃষ্টির প্রথম পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করতে হবে; এর ফলেই দ্বিতীয় প্রকার, যেটা মানুষের আয়ত্তে বাইরে, তাও এসে যাবে। শেষোক্ত অবস...

তওবার মকাম (পর্ব- ৭) বিপদাপদের ঘাঁটি

Image
    তওবার মকাম  (পর্ব-  ৭) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  বিপদাপদের ঘাঁটি-- এরপরেই আল্লাহর ইবাদতের অভিযাত্রীকে বহুতরো বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এসব বিপদাপদে দমে গেলে চলবে না। এগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে করে ইবাদতে ইলাহীতে স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হয়। পূর্বেই বলা হয়েছে, বিপদাপদ চার প্রকার। (১) দুনিয়া বর্জন  দুনিয়া ও তার অপ্রতিরোধ্য দাবি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো দুনিয়াকে উপেক্ষা করা ও দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। এখন আমাদের জানা দরকার, দুনিয়া থেকে কিভাবে আলাদা হওয়া যায়। মনে রাখবে, দুনিয়া থেকে আলাদা হওয়ার দরকার দুটো কারণে। প্রথমত, এতে আল্লাহর ইবাদতে স্থিতিশীলতা ও আধিক্য (অর্থাৎ বেশি বেশি ইবাদতের) লাভ হয়। কারণ দুনিয়ার আকর্ষণ ইবাদতে ইলাহী থেকে মানুষকে অন্য দিকে ব্যাপৃত রাখে। প্রকাশ্যে দুনিয়া পাওয়ার চেষ্টা আর অভ্যন্তরীণ দুনিয়া পাওয়ার লালসার ধোঁকা এ দুটো জিনিসই এমন যে, ইবাদতে ইলাহীর পথে মস্তবড় বাধাস্বরূপ। কারণ একটি নফস ও একটি অন্তঃকরণ যখন একটি কাজে ব্যাপৃত তখন তার বিপরীতটির অস্তিত্ব কোথায়? এক নফসে ও এক...

তওবার মকাম (পর্ব- ৬) গুনাহ্ থেকে মাফ চাওয়ার তরীকা

Image
     তওবার মকাম  (পর্ব-  ৬) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  গুনাহ্ থেকে মাফ চাওয়ার তরীকা— পরিষ্কার কথা এই যে, যখন তুমি এ কাজ শুরু করবে এবং তোমার আত্মা পাপ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্রতা হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে তুমি দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, কিছুতেই আর গুনাহতে লিপ্ত হবে না, তখন লক্ষ্য করবে আত্মার পবিত্রতার সাথে সাথেই তোমার সংকল্পের দৃঢ়তার সততা কতটুকু? কারণ এক্ষেত্রে পূর্ণ সততা থাকা চাই। আর এদিকে যার হক নষ্ট হয়েছে তাকে যথাসম্ভব সন্তুষ্ট করে নেবে এবং অন্যান্য যেসব নিয়ম-পদ্ধতি বলা হয়েছে, তা পালন করবে। অবশিষ্ট গুনাহর জন্য আল্লাহ্ পাকের দরবারে রোনাজারী করবে, যাতে এ ব্যাপারে আর কোন খুঁত না থাকে। অতঃপর গোসল করে পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করবে। তারপর চার রাকাত নফল নামায আদায় করবে। এ নামাযের জায়গাটি হতে হবে খুবই নির্জন, কেবল আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ তোমাকে দেখতে পাবে না। তারপর আল্লাহ্ পাকের সামনে নিজের মস্তক সিজদাবনত করবে এবং মাথা ও চেহারায় মাটি মলতে হবে। যেহেতু তোমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে মুখমন্ডলই বেশি প্রিয় – এ জন্য মুখমণ্ডলে অধিক মাটি মাখবে। অপরদিকে তো...

তওবার মকাম (পর্ব- ৫) তওবায়ে নসূহা

Image
    📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  তওবায়ে নসূহা অতঃপর আর একটি বিষয় খুব ভালভাবে জেনে রাখতে হবে। যে ঘাঁটিটি অত্যন্ত কঠিন, এটা অতিক্রম অত্যন্ত ক্লেশপূর্ণ। এখানে সাফল্য লাভ করতে পারলে যেমন আজিমুশ্শান মরতবা হাসিল হয়, তেমনি ব্যর্থতায় ভীষণ ক্ষতির কারণও হয়। আমি ওস্তাদ আবূ ইসহাক আল-আসফেরায়নীর (তিনি একজন গভীর ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ও ইবাদতগোযার ব্যক্তি) নিকট থেকে শুনতে পেয়েছি-- তিনি বলেছেন : আমি আল্লাহর নিকট ত্রিশ বছর ধরে মুনাজাত করছিলাম তওবায়ে নসূর তৌফিক দানের জন্য। অতঃপর আমি মনে মনে তাজ্জব হলাম যে, সুবহানাল্লাহ্! ত্রিশ বছর আল্লাহ্ পাকের দরবারে একটি মনোবাঞ্চনা পূরণের জন্য মুনাজাত করলাম, তাও কবুল হলো না। এ সময় আমি দেখতে পেলাম,(স্বপ্নে যেমন মানুষ দেখতে পায়) একজন আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “এতেই তুমি তাজ্জব হয়েছ, তুমি কি বিবেচনা করে দেখেছ যে, তুমি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট কি জিনিসের প্রত্যাশা করছ? তুমি তো আদতে আল্লাহ্ তা'আলার ভালবাসাই কামনা করছ! কারণ তুমি কি জান না, আল্লাহ্ পাক স্বয়ং ইরশাদ করেছেন আল্লাহ পাক অবশ্যই তওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালবাসেন। তুমি কি সেই...

তওবার মকাম (পর্ব- ৪) পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায়

Image
     তওবার মকাম  (পর্ব-  ৪) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায় পাপ তিন প্রকারের : প্রথমত, আল্লাহর ওয়াজিবসমূহ ত্যাগ করা— যথা নামায, রোযা, যাকাত, কাফ্ফারা। যতদূর সম্ভব এ সকল আদায় করা দরকার। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ্ ও বান্দার মধ্যে যা সংঘটিত হয়-- যথা মদ্যপান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, সূদ খাওয়া ইত্যাদি। এসব কাজে লিপ্ত হলে পরক্ষণেই অনুতপ্ত হওয়া উচিত এবং পুনরায় যাতে তাতে লিপ্ত না হতে হয়, তজ্জন্য মনকে দৃঢ় করা দরকার। তৃতীয়ত, মানুষের পরস্পরের উপর পরস্পরের যে হক আছে, সে ব্যাপারে পাপে লিপ্ত হওয়া। এ পর্যায়টি বড় কঠিন ও মারাত্মক। শেষোক্ত পর্যায়ের পাপ আবার কয়েক শ্রেণীতে বিভক্ত। কখনো এ পর্যায়ের পাপ আর্থিক ব্যাপারে সংঘটিত হয়। আবার কখনো জীবন, মান-ইযযত ও ধর্মের ব্যাপারে সংঘটিত হয়। যদি বিষয়-সম্পদ সম্পর্কিত কোন কাজ হয়, তবে সে মাল ফিরিয়ে দেয়া ওয়াজিব। যদি কেউ দারিদ্র্য ও সহায়-সম্বলহীনতার জন্য মাল ফিরিয়ে দিতে না পারে তবে এ জিনিস তারই থাকবে। যদি মালের মালিক অনুপস্থিত বা ইন্তেকাল করে থাকে, তবে সদকা করতে পারলে সদকা দিতে হবে। সদকা-খয়...

তওবার মকাম (পর্ব- ৩) তওবার প্রারম্ভিকা

Image
   তওবার মকাম  (পর্ব-  ৩) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   তওবার প্রারম্ভিকা তওবার প্রারম্ভিক হিসেবে তিনটি কাজ করতে হয়। প্রথমত, পাপের সর্বাপেক্ষা মন্দ দিকটি নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ্ তা'আলার আযাবের ভয়াবহতা বিরক্তি ও অসন্তুষ্টির এমন পর্যায়টিকে স্মরণ করবে যা সহ্য করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য কোন মানুষেরই নেই। তৃতীয়ত, নিজের দুর্বলতা ও স্বল্পস্থায়ী জীবনের কথা স্মরণ করবে। মনে করবে, যে মানুষ সূর্যের উত্তাপ, শীতের প্রকোপ এবং পিপীলিকার দংশন পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না, সে কি করে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক দোযখের আযাব এবং ফেরেশতাদের নির্মম প্রহার সহ্য করতে সক্ষম হবে? অথচ সেই দোযখের মধ্যে যে সর্প দংশন করবে, তার এক-একটার আকার হবে উটের ন্যায়, যে বিচ্ছু দংশন করবে, তার এক-একটার আকৃতি হবে গাধার ন্যায়। দোযখের অগ্নির সর্বাপেক্ষা তীব্র দহন অবস্থা থেকে এ সকল জীব সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তুমি এ সকল বিষয়ে চিন্তার দিকে অগ্রসর হয়ে থাকবে এবং রাতদিন সর্বক্ষণ এগুলো স্মরণ রাখতে সক্ষম হবে, তখন তুমি খাঁটি তওবা লাভ করতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, রসূলুল্লাহ...

তওবার মকাম (পর্ব- ২) তওবার অর্থ ও শর্তাবলী

Image
   তওবার মকাম  (পর্ব-  ২) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   তওবার অর্থ ও শর্তাবলী যদি জানতে চাও যে, তওবায়ে নসুহ এর অর্থ কি এবং তার সংজ্ঞাই বা কি ? আর গুনাহ্ থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য কি করা দরকার? তাহলে আমি বলব, তওবা হচ্ছে কলবের একটি প্রক্রিয়ার নাম। উলামায়ে কিরামের মতে, এটা হাসিল হলে মানুষ গুনাহ্ থেকে পবিত্র ও মুক্ত হয়ে যায়। আমাদের শায়খ (রহঃ) তওবার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন : আল্লাহ্ তা'আলার মহত্ত্ব জাগ্রত হওয়া এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য পূর্বে গুনাহ্ বলতে যা কিছু হয়ে গেছে তাতে পুনরায় লিপ্ত না হওয়াই তওবা। তওবার শর্ত চারটি (১) প্রথম শর্ত : গুনাহতে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা অর্থাৎ মনে মনে এ প্রতিজ্ঞা করবে যে, কিছুতেই আর এ গুনাহতে লিপ্ত হবে না। নিজের এ মতকে দৃঢ়ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেউ গুনাহ্ হয়তো পরিত্যাগ করলো, কিন্তু মনে এমন একটা ভাব থাকলো যে, পুনরায় তাতে লিপ্ত হবে অর্থাৎ নিজের মতের উপর দৃঢ়তা নেই, বরং সন্দেহ ও আশঙ্কা বিরাজমান কিংবা এমন একটা ভাব আছে যে, পুনরায় তাতে লিপ্ত হতেও পারে, তবে তাকে বলতে হবে তিনি গুনাহ...

তওবার মকাম - (পর্ব- ১)-- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

Image
 তওবার মকাম - (পর্ব-  ১) 📚 মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)  আল্লাহর ইবাদতে যিনি মশগুল হতে চান, তাঁকে অবশ্যই তওবা করে নিতে হবে। ইবাদতে ইলাহীতে মশগুল হওয়ার জন্য তওবা জরুরী ও অতীব প্রয়োজনীয়। দুটো কারণে এ তওবার প্রয়োজন হয়।  প্রথমত, গুনাহ্ মানুষকে দুর্ভাগ্য ও বঞ্চিত অবস্থায় নিপতিত করে, অতঃপর তা দুর্ভোগ ও অপমানের দিকে ঠেলে দিতে থাকে। শুধু তাই নয়, গুনাহর আকর্ষণ মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে ও তাঁর ইবাদতে এগিয়ে যেতে বাধার সৃষ্টি করে। কেননা গুনাহর বোঝা বান্দাকে এমনি অবস্থায় পৌঁছিয়ে দেয় যে, সে তা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর পথের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া, গুনাহ্ মানুষের কলবকে কালো করে দেয়, ফলে তার অন্তরে জুলমাত আর পাষাণত্ব ঘাঁটি স্থাপন করে। অতঃপর তার মধ্যে সততা, হৃদয়বত্তা ও আল্লাহ্ পথে চলার স্বাদ ও মধুরতা উপভোগের ক্ষমতা ও আর অবশিষ্ট থাকে না। এ সময় তার উপর যদি আল্লাহর রহমতের ছায়া বিরাজমান না থাকে, তবে সে কুফরী ও কহরের চরম অবস্থায় নিমজ্জিত হতে থাকে। আর এ তো চরম তাজ্জবের বিষয় যে, যে ব্যক্তি কুফরী ও কহর অবস্থায় নিপতিত, সে কি করে ইবাদতে ইলাহীর তৌফিক হাসিল ক...

ইলমের প্রয়োজনীয়তা - ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

Image
    ইলমের প্রয়োজনীয়তা (মিনহাজুল আবেদীন) ——————— ইবাদতের জন্য ইল্‌ম— হযরত রসূলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াআলিহী ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : “প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইলম হাসিল করা ফরয”। এখন তোমার জানা দরকার-- কোন্ ইলম হাসিল করা ফরয এবং ইবাদতে ইলাহীতে বান্দার জন্য কোন ইমের প্রয়োজন। মোটামুটি একটি কথা মনে রাখ, যেসব বিষয় হাসিল করা ফরয এবং জরুরী তা তিন প্রকার। যথা-- তওহীদ সম্পর্কিত ইলম, অন্তঃকরণ ও অন্তঃকরণের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কিত গোপন ইলম এবং শরীয়ত সম্পর্কিত ইলম। এ তিন প্রকারের ইলমের আবার প্রত্যেকটারই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ হাসিল করা ফরয ও জরুরী। (১) ইলমে তওহীদ ইলমে তওহীদের ততটুকুই হাসিল করা ফরয, যার দ্বারা তোমার দীনের মূলনীতি জানা হয়। দীনের মূলনীতি হলো : তোমার একজন প্রকৃত মা'বুদ আছেন, যিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন; তিনি চিরঞ্জীব এবং এক, অদ্বিতীয়; তাঁর কোন শরীক নেই, সকল পরিপূর্ণ গুণে তিনিই গুণান্বিত এবং সকল প্রকার কমতি-দুর্বলতা বা ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তিনিই। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াআলিহী ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও প্রে...