Posts

আল ফিতান ১৯৯১ নং হাদিস

 হাদিস - ১৯৯১। আল ফিতান হযরত আরতাত ইবনে মুনযির হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন আমাদের নিকট এখবর পৌছেছে যে, নাছ নবী ছিল। আর সে দাহরের ব্যপারে আলোচনা করেছে। অতপর তিনি বলেন দাহর হল সাতটি সাবু'। আর এক সাবু' হল সাত হাজার বছর। আর ইদান হল এক হাজার বছর। অতপর পূর্ববর্তী সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন। অতপর তিনি তার বিষয়ে যা ছিল এমনকি শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনা করলেন। অতপর তিনি বললেন যখন শেষ সাবু' এর চার ইদান শেষ হবে তখন আযরাউল বাতুল জন্ম গ্রহণ করবে। সে নিদর্শনাবলী নিয়ে আসবে। সে মৃতকে জীবিত করবে, আকাশে উড়বে। আর তার পর আহওয়া বিভিন্ন হয়ে যাবে। অতপর তারপরে একজন দাসীর সন্তানের প্রকাশ ঘটবে। বারটি পতাকাতে। যার প্রথম হল ঐব্যক্তি যার জন্ম হবে হরমে। তার জন্মে আকাশ অভ্যর্থনা জানাবে। তার অবির্ভাবে ফিরিশতাগণ সুসংবাদ দিবে। অতপর সে সমস্ত উম্মতের উপর প্রকাশ পাবে। যে তাকে স্বীকার করবে সে নিরাপদ থাকবে। আর যে তাকে অস্বীকার করবে সে কাফের। সে পারস্যের উপর বিজয় লাভ করবে এবং উহার বাদশা হবে। এমনিভাবে সে আফ্রিকা জয় করবে ও উহার বাদশা হবে। এমনিভাবে সুরিয়াও (জয় করে বাদশা হবে)। সে অবস্থান করবে তিন সাবু' হতে এক সাবু...

কদর রাতের পরের দিন

Image
কদর রাতের পরে যা হবে সুরা কদরে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,- “  সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর”। অর্থাৎ - “শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত”। এর পরের ঘটনা জানুন আল্লামা ইবনে কাসীর (রহঃ)-এর তফসীর থেকে লিখে দিলাম॥ কদরের রজনীতে জিব্রাইল (আঃ) সকল ইমানদারদের সাথে করমর্দন করেন। তার করমর্দনের সময় মুমিন ব্যক্তির শরীরের  লোমকুপ খাড়া হয়ে যায়। মন কোমল হয় এবং চোখে অশ্রুধারা নেমে আসে। এসব নিদর্শন দেখা দিলে বুঝতে হবে , তার হাত হজরত জিব্রাইল (আঃ)-এর হাতের মধ্যে রয়েছে।  ফজরের পর জিব্রাইল (আঃ) সমস্ত ফেরেস্তাদের নিয়ে উপরে দিকে উঠে যান এবং অনেক উপরে উঠে স্বীয় পালক ছড়িয়ে দেন অতপর তিনি সেই দুটি সবুজ পালক প্রসারিত করেন, যা অন্য কোন সময় প্রসারিত করেননা। এর ফলে সূর্যের কিরণ মলিন ও স্থিমিত হয়ে যায়। তারপর তিনি সমস্ত ফেরেশতাদের ডাকিয়ে নিয়ে যান। সব ফেরেশতা উপরে উঠে গেলে তাদের নুর এবং জিব্রাইল (আঃ) এর পালকের নুর মিলিত হয়ে সুর্যের কিরণকে নিস্প্রভ করে দেয়। ঐ দিন সূর্য অবাক হয়ে যায়। সকল ফেরেশতা সেদিন আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের ইমানদার নারী-পুরুষের জন্য রহমত কামনা কর...

আদেশ ও নিষেধ ( ১) পূর্বাভাষ

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (পর্ব- ১) ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) পূর্বাভাষ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ইসলামের একটি অন্যতম আমল। এই আমলের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্যই পৃথিবীতে আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামগণের আগমন ঘটিয়াছিল। তাঁহারা 'আমরে বিল মা'রূফ' ও 'নেহী আনিল মুনকার' তথা “সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ” এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের বিধান মানুষের নিকট পৌছাইয়া দিয়াছেন। পৃথিবীতে নবী (আঃ) গণের আগমনের ধারা বন্ধ হইয়া যাওয়ার পর এই দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামের উপর অর্পিত হইয়াছে। মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমানের প্রশ্নে এই আমলের আবশ্যকতা কতটা গুরুত্ববহ এই প্রসঙ্গে কেবল এতটুকু বলাই যথেষ্ট হইতে পারে যে, মানুষ যদি অবহেলা বশে এই আমল পরিত্যাগ করে, তবে দুনিয়াতে নবীগণের আগমনের উদ্দেশ্য ব্যহত হইয়া দ্বীনের ভিত্তি দুর্বল হইয়া পড়িবে এবং সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরে চরম অবক্ষয় ও গোমরাহী ছড়াইয়া পড়িবে। দ্বীনের এই আহাম ও গুরুত্বপূর্ণ আমলের অনুপস্থিতির কারণে মানুষ ক্রমে আল্লাহর বিধান হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া পাপাচার-অনাচার ও ফেৎনা-ফাসাদের কঠিন তমসায় আচ্ছন্ন হইয়া পড়িবে এবং এক পর্যায়ে মান...

পিতা-মাতার হক ও আল্লাহ ও রসূল (সঃ)-এর নির্দেশ

পিতা-মাতার হক ও আল্লাহ ও রসূল (সঃ)-এর নির্দেশ-- আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। সূরাঃ ( বনী-ইসরাঈল ) এই আয়াতে মহান আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ইবাদতের পর দ্বিতীয় নম্বরে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ থেকে পিতা-মাতার আনুগত্য ও তাঁদের খেদমত করার এবং তাঁদের প্রতি আদব ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার কত যে গুরুত্ব তা পরিষ্কার হয়ে যায়। অর্থাৎ, প্রতিপালকের প্রতিপালকত্বের দাবীসমূহের সাথে সাথে পিতা-মাতার দাবীসমূহ পূরণ করাও অত্যাবশ্যক। হাদীসসমূহেও এর গুরুত্ব এবং এর প্রতি চরম তাকীদ করা হয়েছে। বিশেষ করে বার্ধক্যে তাঁদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলতে এবং তাঁদেরকে ধমক দিতে নিষেধ করেছেন। কেননা, বার্ধক্যে তাঁরা দুর্বল ও অসহায় হয়ে যান। পক্ষান্তরে সন্তানরা হয় সবল এবং উপার্জন-সক্ষম ও (সংসারের সব কিছুর) ব্যবস্থাপক। এ ছাড়া যৌবনের উন্মাদনাময় উদ্যম এবং বার্ধক্যের ভুক্তপূর্ব স্নিগ্ধ ও উষ্ণ অভিজ্ঞতার মধ্যে...

পুত্রের প্রতি লোকমান (আঃ) এর নসিহত

Image
শিক্ষনীয় পোষ্টটি পড়ার অনুরোধ রইল— ৭ নাম্বারটা বুঝতে ভুল করবেননা। একটু জটিল তাই মেনশন করে দিলাম। হযরত লোকমান (আলাইহিস্সালাম) তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন :  (১) আলেমদের সামনে বিনয়াবনত হয়ে বস, তাদের সাথে তর্ক করো না। করলে তারা তোমাকে খারাপ মনে করবে।  (২) দুনিয়াতে জীবন ধারণ করা যায় এই পরিমাণ সম্পদ রেখে অবশিষ্ট উপার্জন আখেরাতের জন্যে ব্যয় কর।  (৩) সংসার-ধর্ম সম্পূর্ণ বর্জন করো না। তাহলে নিজের বোঝা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে হবে এবং অপরের গলগ্রহ হতে হবে।  (৪) রোযা এমনভাবে রাখ, যা দ্বারা কামশক্তি দমিত হয়— এমন ভাবে রেখো না, যা দ্বারা নামাযে বিঘ্ন দেখা দেয়। কেননা, নামায রোযা অপেক্ষা উত্তম।  (৫) নির্বোধের কাছে বসো না  (৬) দ্বিমুখী মানুষের সাথে মেলামেশা করো না।  (৭) নিজের ধন হারিয়ে অপরের ধনের হেফাযত করো না। বলা বাহুল্য, মৃত্যুর পূর্বে যে ধন দান করা হয়, তা নিজের ধন এবং মৃত্যুর সময় যে ধন রেখে যাওয়া হয়, তা অপরের ধন।  (৮) প্রিয় বৎস, যে দয়া করে, তার প্রতি দয়া করা হয়। যে চুপ থাকে, সে নিরাপদ থাকে। যে ভাল কথা বলে, সে সওয়াব পায়। যে মন্দ কথা বলে, সে গোন...

তকদির নিয়ে সন্দেহ করা কুফরি। আর পরিক্ষা করে দেখা শয়তানি

Image
  তকদির নিয়ে সন্দেহ করা কুফরি। আর পরিক্ষা করে দেখা শয়তানি। একদা ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) এর সাথে ইবলীসের সাক্ষাত হয়। ঈসা (আঃ) ইবলীসকে বললেন, তুমি তো জান, তোমার তাকদীরে যা লেখা হয়েছে তার ব্যতিক্রম কিছুতেই হবে না ।  ইবলীস বলল, তা হলে আপনি এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠুন এবং সেখান থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়ে দেখুন জীবিত থাকেন কিনা।  ঈসা (আঃ) বললেন, তুমি জান না, আল্লাহ বলেছেন, বান্দা আমাকে পরীক্ষা করতে পারে না, আমি যা চাই তাই করে থাকি?  যুহরী বলেছেন, মানুষ কোন বিষয়ে আল্লাহকে পরীক্ষা করতে পারে না, বরং আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন।  আবু দাউদ (রহঃ) আহমদ তাউসের বরাতে বলেন।  একবার শয়তান হযরত ঈসা (আঃ)-এর নিকটে এসে বলল, আপনি তো নিজেকে সত্যবাদী বলে মনে করেন, তা হলে আপনি ঊর্ধ্বে উঠে নীচে লাফিয়ে পড়ুন দেখি। ঈসা (আঃ) বললেন, তোমার অমঙ্গল হোক, আল্লাহ কি এ কথা বলেন নি যে,-  “হে আদম সন্তান ! তোমরা আমার নিকট মৃত্যু কামনা করবে না? কেননা আমি যা চাই তা-ই করে থাকি।” আবু তাওয়া আর রবী' .. খালিদ ইব্‌ন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। শয়তান দশ বছর কিংবা দু' বছর যাবত ঈসা (আঃ)-এর সাথে ইবাদত বন্...

খুশু-খুজু বা নামাজে একাগ্রতা

Image
 খুশু-খুজু  বা নামাজে একাগ্রতা 📚মুকাশাফাতুল কুলুব ✍🏻 হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ——————— নামাযের পূর্ণাঙ্গতা বিনম্ন আত্মসমর্পণ ও একাগ্রতার মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণাঙ্গ সুন্দর ও প্রাণবন্ত করার নাম খুশু-খুজু। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন   :  >“মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী-নম্র”। (মুমিনূন  : ১,২ )  আয়াতে উল্লেখিত ‘খুশু’র ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেছেন, — ‘এটা আত্মার সাথে সম্পর্কিত আমল। যেমন ভয় ও শঙ্কা’র সম্পর্ক আত্মার সাথে, তেমনি খুশুও একটি আত্মিক আমল।  আবার কেউ কেউ খুশুকে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে যুক্ত করে এটাকে বাহ্যিক আমল বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন, -শারীরিক স্থিরতা-ধীরতা, এদিক-সেদিক দৃষ্টি না করা, অহেতুক অঙ্গ সঞ্চালন থেকে বিরত থাকা; নামাযের ভিতর এগুলো বাহ্যিক আমলের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। অনুরূপ, আরও কেউ কেউ বলেছেন, নামাযের জন্য খুশু’র প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, অর্থাৎ এটা একান্ত ফরয পর্যায়ের বিষয়। অপরদিকে কেউ কেউ খুশুকে নামাযের জন্য ফযীলত ও মুস্তাহাব বলে অভিহিত করেছেন। ফরয আখ্যাদানকারীগণ দলীল হিসাবে যে হাদীসখানি...