আদেশ ও নিষেধ ( ১) পূর্বাভাষ

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (পর্ব- ১)
ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

পূর্বাভাষ
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ইসলামের একটি অন্যতম আমল। এই আমলের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্যই পৃথিবীতে আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামগণের আগমন ঘটিয়াছিল। তাঁহারা 'আমরে বিল মা'রূফ' ও 'নেহী আনিল মুনকার' তথা “সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ” এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের বিধান মানুষের নিকট পৌছাইয়া দিয়াছেন।
পৃথিবীতে নবী (আঃ) গণের আগমনের ধারা বন্ধ হইয়া যাওয়ার পর এই দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামের উপর অর্পিত হইয়াছে। মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমানের প্রশ্নে এই আমলের আবশ্যকতা কতটা গুরুত্ববহ এই প্রসঙ্গে কেবল এতটুকু বলাই যথেষ্ট হইতে পারে যে, মানুষ যদি অবহেলা বশে এই আমল পরিত্যাগ করে, তবে দুনিয়াতে নবীগণের আগমনের উদ্দেশ্য ব্যহত হইয়া দ্বীনের ভিত্তি দুর্বল হইয়া পড়িবে এবং সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরে চরম অবক্ষয় ও গোমরাহী ছড়াইয়া পড়িবে। দ্বীনের এই আহাম ও গুরুত্বপূর্ণ আমলের অনুপস্থিতির কারণে মানুষ ক্রমে আল্লাহর বিধান হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া পাপাচার-অনাচার ও ফেৎনা-ফাসাদের কঠিন তমসায় আচ্ছন্ন হইয়া পড়িবে এবং এক পর্যায়ে মানুষের অপরাধ অনুভূতি লোপ পাইয়া এমন এক অবস্থা সৃষ্টি হইবে যে, মানুষ আল্লাহ পাকের অসংখ্য নাফরমানী করিবার পরও উহাকে কোন অপরাধই মনে করিবে না।
বর্তমান সময়ে (১২'শ বছর আগে) সম্ভবতঃ আমাদের সেই আশংকাই বাস্তবে প্রমাণিত হইতেছে। দ্বীনের এই বুনিয়াদী আমল সম্পর্কে মানুষের ধারণা ক্রমেই লোপ পাইতেছে এবং কালক্রমে মানুষ ইহার আমল একেবারেই পরিত্যাগ করিতে বসিয়াছে। মানুষ এখন সৃষ্টিকর্তা খালেকের বন্দেগী ত্যাগ করিয়া মানুষেরই গোলামী করিতে শুরু করিয়াছে। দ্বীনের ছহী সমঝ ও আমল হইতে দূরে সরিয়া পড়ার কারণেই মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি এখন চতুস্পদ জন্তুর নিকৃষ্টতাকেও হার মানাইতেছে। ভূ-পৃষ্ঠে এমন সত্যিকার ঈমানদার নিতান্ত দুর্লভ হইয়া পড়িতেছে, যাহারা সব রকম বাঁধা-বিপত্তি ও প্রতিকুলতা উপেক্ষা করিয়া আল্লাহ তা'আ'লার বিধানের উপর কায়েম থাকিতে সচেষ্ট হইবে। এহেন নাজুক সময়ে যাহারা সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে দ্বীনের হাল ধরিয়া মানুষের মাঝে আবারো নবীওয়ালা আমল (সুন্নাহ্) জারীর মেহনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করিবে, তাহারা আল্লাহ পাকের পক্ষ হইতে মহান পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করিবে।
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের মেহনত তথা আমরে বিল মা'রূফ ও নেহী আনিল মুনকারের আমলটি অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যবহ। আমরা এই বিষয়টিকে চারিটি পৃথক পরিচ্ছেদে আলোচনা করার প্রয়াস পাইব। (তারই ধারাবাহিকতায়) প্রথম পরিচ্ছেদে গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করব।

পরবর্তী পর্ব
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের গুরুত্ব ও ফজিলত

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক