Posts

Showing posts from May, 2023

চরিত্র সংশোধন (৩৮) ধৈর্য সস্বভাবের নিদর্শন

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৮) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ধৈর্য সস্বভাবের নিদর্শন ধৈর্য হইতে অধিকাংশ স্থলে সস্বভাবের পরিচয় মিলে৷ ধৈর্য সম্পর্কে কয়েকটি ঘটনা এস্থলে বর্ণনা করা যাইতেছে। কাফিরগণ রাসূলে মাকবূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উনার উপর ভীষণ অত্যাচার করিয়াছিল এবং উনাকে অসীম দুঃখ-কষ্ট দিয়াছিল, প্রস্তরাঘাতে তাহারা উনার দাঁত পর্যন্ত ভাঙ্গিয়াছিল। তিনি এই সমস্ত অবিচার, অত্যাচার নির্বিকারচিত্তে সহ্য করিয়াছিলেন এবং আল্লাহর নিকট তাহাদের মঙ্গলের জন্য নিবেদন করিয়া বলিয়াছিলেন— ‘হে আল্লাহ্, তাহাদের প্রতি দয়া করুন, কারণ তাহারা অজ্ঞান, কিছুই বুঝে না”। একদা হযরত ইবরাহীম আদহাম (রহঃ) এক নির্জন পথ দিয়া গমন করিতেছিলেন I এমন সময় এক সৈনিকের সহিত তাঁহার সাক্ষাত ঘটিল। সৈনিক তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল– “তুমি কি গোলাম”? তিনি বলিলেন- “হাঁ, আমি গোলাম”। সিপাহী আবার জিজ্ঞাসা করিল— “মানব বসতি কোন দিকে বলিতে পার”? হযরত ইবরাহীম আদহাম (রহঃ) বলিলেন- “কবরস্থান”? সিপাহী বলিল- “আমি লোকালয় তালাশ করিতেছি”। তিনি বলিলেন- “কবরস্থানই লোকের স্থায়ী বাসস্থান”। ই...

চরিত্র সংশোধন (৩৭) কামিল ব্যক্তিগণের গুণ তথা সৎস্বভাব সমুহ

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৭) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) কামিল ব্যক্তিগণের গুণ তথা সৎস্বভাব সমুহ কামিল ব্যক্তিগণ নিম্নলিখিত গুণরাজিকে সস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন- (১) লজ্জাশীলতা, (২) অল্প কথা বলা, (৩) দুঃখকে লঘু মনে করা, (৪) সত্য কথা বলা, (৫) সৌজন্য ও ঘনিষ্ঠতার সহিত সকলের সঙ্গে অবস্থান, (৬) কর্তব্যকার্যে যত্ন ও পরিশ্রম, (৭) অত্যধিক ইবাদত করা, (৮) অধিক ভুল-ত্রুটি না করা, (৯) অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত না হওয়া, (১০) বিশ্বপ্রেমিক হওয়া, (১১) সকলের মঙ্গল কামনা করা, (১২) মাহাত্ম্য, (১৩) করুণা, (১৪) ধীরতা, (১৫) ধৈর্য, (১৬) অল্পে তুষ্টি, (১৭) কৃতজ্ঞতা, (১৮) গম্ভীরতা, (১৯) কোমল হৃদয়তা, (২০) অপরকে সহায়তা করিবার বাসনা, (২১) প্রলোভন হইতে বাঁচিবার শক্তি, (২২) অল্প আশা করা, (২৩) অপরকে গালি না দেওয়া এবং অভিশাপও না করা, (২৪) একের কথা অপরের নিকট না বলা, (২৫) পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা হইতে বিরত থাকা, (২৬) হঠকারিতা না করা ও দুঃসাহস বর্জন করা, (২৭) হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা, (২৮) প্রফুল্ল বদনে থাকা ও মিষ্ট কথা বলা, (২৯) আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি বিধানের নিমিত্ত অপর...

চরিত্র সংশোধন (৩৬) মুমিন ও মুনাফিকদের তুলনা

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৬) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) মুমিন ও মুনাফিকদের তুলনা- রাসূলে মাকবূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন— “মুমিনের জীবনের লক্ষ্য নামায, রোযা এবং ইবাদত আর মুনাফিকদের জীবনের লক্ষ্য পশুর মত পানাহার”। হযরত হাতিম আসাম (রঃ) বলেন- “মুসলমান কখনও নিশ্চিন্ত থাকে না; বরং সর্বদা সৎচিন্তা ও উপদেশ আহরণে ব্যস্ত থাকে; অপরদিকে, মুনাফিক সর্বদা লোভ ও কামনা-বাসনায় মগ্ন থাকে। মুসলমান খোদা ভিন্ন আর কাহাকেও ভয় করে না; মুনাফিক কিন্তু খোদা ভিন্ন সকলের ভয়ে অধীর ও ব্যস্ত থাকে। মুসলমান এক খোদা ব্যতীত আর কাহারও আশা করে না; কিন্তু মুনাফিক এক খোদা ভিন্ন আর সকলেরই আশা করিয়া থাকে। মুসলমান স্বীয় ধন ধর্মকার্যে ব্যয় করিয়া থাকে; মুনাফিক কিন্তু অমূল্য ধনরত্ন সামান্য পার্থিব ধনের লালসায় বিসর্জন দিয়া থাকে। মুসলমান সর্বদা ইবাদতে মশগুল থাকে, কিন্তু তবুও যথাযথ ইবাদত হইল না বলিয়া আল্লাহর দরবারে রোদন করিতে থাকে; অপরপক্ষে, মুনাফিক সর্বক্ষণ পাপকার্যে রত থাকে, অথচ আমোদ-প্রমোদে কালাতিপাত করে। মুসলমান নির্জনতা পছন্দ করে; অপরপক্ষে, মুনাফিক ...

চরিত্র সংশোধন (৩৫) সৎস্বভাবের নিদর্শন

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৫) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   সৎস্বভাবের নিদর্শন আল্লাহ্ কুরআন শরীফে মুসলমানদের গুণরূপে যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করিয়াছেন উহাই সৎস্বভাবের নিদর্শন । তিনি বলেন “নিশ্চয় মু’মিনগণ মুক্তি পাইয়াছে (অভীষ্ট লাভ করিয়াছে) সেই (মু'মিনগণ) যাহারা আপন নামাযের মধ্যে মিনতিকারী এবং অনর্থক (কাজ ও কথা) হইতে মুখ ফিরায় এবং যাহারা যাকাত পরিশোধ করে এবং যাহারা আপন লজ্জাস্থানগুলির রক্ষাকারী, কিন্তু নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অথবা তাহাদের হাত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে (সেই) বান্দীদের প্রতি, নিশ্চয় তাহাদিগকে ভর্ৎসনা করা হয় নাই । অনন্তর যাহারা উহা ব্যতীত চেষ্টা করে অপিচ তাহারাই সীমালংঘনকারী এবং সেই (মু'মিন সকল) যাহারা নিজেদের আমানত দ্রব্যসমূহ ও নিজেদের অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং যাহারা আপন নামাযসমূহ রক্ষা করিয়া থাকে এই সকল লোকই উত্তরাধিকারী” (সূরা মু'মিন রুকু ১) । আল্লাহ্ সৎস্বভাবের নিদর্শন সম্বন্ধে আরও বলেনঃ । “তওবাকারী ইবাদতকারী” ( সূরা তওবা, রুকু ১৪) । তিনি আরও বলেন “এবং সেই সকল লোক আল্লাহ্'র বান্দা যাহারা ভূতলে মৃদুভাবে পদবিক্ষ...

চরিত্র সংশোধন (৩৪) রিয়াযতের বর্ণনার সারাংশ

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৪) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   রিয়াযতের বর্ণনার সারাংশ রিয়াযতের সারাংশ এই, যে দ্রব্য যাহার নিকট অধিক প্রিয়, তাহাকে সর্বপ্রথম সেই দ্রব্য পরিত্যাগ করিতে হইবে এবং যে প্রবৃত্তি হৃদয়ে প্রবল হইয়া উঠে, ইহারই বিরুদ্ধাচরণ করিতে হইবে । মান-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি যাহার নিকট অধিক প্রিয়, অতি সত্বর উহা পরিত্যাগ করা তাহার কর্তব্য । ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে যাহাদের মন আনন্দ পায়, অতি শীঘ্র তাহাদের ধন সম্পদ বিতরণ ও ব্যয় করিয়া দেওয়া উচিত । সেইরূপ আল্লাহ্'র প্রেম ব্যতীত অন্য কোন দ্রব্যে যে ব্যক্তি আনন্দ পায়, বলপ্রয়োগে ইহা তাহার নিকট হইতে দূরে নিক্ষেপ করিয়া দিতে হইবে । অপরপক্ষে, যাহা মানুষের চিরকালের সাথী তৎপ্রতিই তাহার আসক্ত হওয়া আবশ্যক । মৃত্যুকালে যাহা বাধ্য হইয়াই ছাড়িয়া যাইতে হইবে, মৃত্যুর পূর্বেই স্বেচ্ছায় তাহা পরিত্যাগ করা উচিত । কেবল আল্লাহ্ই মানুষের চিরকালের সাথী । এইজন্যই তিনি হযরত দাউদ (আ)-কে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছেন- “হে দাউদ, আমিই তোমার একমাত্র সাথী; অতএব তুমিও আমার সাথী হইয়া থাক । ” রাসূলে মাকবুল (সল্লল্...

চরিত্র সংশোধন (৩৩) একমাত্র আল্লাহ্-প্রেমের পথ উন্মুক্ত রাখা কর্তব্য

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৩) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) একমাত্র আল্লাহ্-প্রেমের পথ উন্মুক্ত রাখা কর্তব্য শিকারী বাজপাখির সঙ্গে মানব-প্রবৃত্তিকে তুলনা করা যাইতে পারে । বাজকে সুশিক্ষিত এবং আজ্ঞাধীন করিতে সমর্থ হইলেও ইহার সম্বন্ধে শিকারী উদ্বেগশূন্য হয় না; বরং শিকার ধরিয়া সে ঘরে ফিরিলে বাজের চক্ষুদ্বয় সেলাই করিয়া রাখে যেন অন্যান্য পদার্থ ইহার দৃষ্টিপথে পতিত না হয় । ইহার চক্ষু বন্ধ করিয়া না রাখিলে সে চতুস্পার্শ্বের দ্রব্যাদির প্রতি প্রলুব্ধ হইয়া শিকার ধরিবার শিক্ষা-দীক্ষা ভুলিয়া যাইতে পারে । এইরূপে চক্ষু বন্ধ রাখিয়া শিকারী প্রাণ রক্ষার জন্য বাজপাখিকে কিছু গোশত দেয় । মালিকের নিকট হইতে আহার্য পাইয়া বাজ তাহার প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট ও আজ্ঞাধীন হইয়া উঠে । শিকারী বাজকে যেরূপ সতর্কতার সহিত রাখে, মানব-প্রবৃত্তিকেও সেইরূপ সতর্কতার সহিত রাখা কর্তব্য । প্রবৃত্তিকে ইহার সমস্ত ভোগ্য দ্রব্য ও অভ্যাস হইতে বিরত রাখিয়া কেবল আল্লাহ্'র প্রতি তাহাকে আসক্ত ও অনুরক্ত রাখিতে হইবে । প্রবৃত্তির যাবতীয় অভ্যাস পরিত্যাগ না করিলে এবং চক্ষু, কর্ণ, রসনা বন্ধ করিয়া...

চরিত্র সংশোধন (৩২) প্রবৃত্তি দমনের উপকারিতা

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩২) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) প্রবৃত্তি দমনের উপকারিতা যদিও জঙ্গলের ডালিম বৈধ ও ইহা ভক্ষণে কোন অন্যায় নাই, তথাপি ধর্মপরায়ণ সতর্ক ব্যক্তিগণ হালাল ও হারাম, এই উভয়ের লোভকে সমান অনিষ্টকর বলিয়া মনে করেন । তুমি যদি লোভ দমন না কর ও নিতান্ত প্রয়োজনীয় অভাব অপসারণ করিয়া সন্তুষ্ট না হইতে পার, তবে তোমার প্রবৃত্তি অত্যন্ত লোভী হইয়া যাইবে এবং অবশেষে তোমার নিকট হারাম বস্তু যাচ্ঞা করিতে থাকিবে । এইজন্য সতর্ক ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ হালাল বস্তুর লোভও বর্জন করিয়া থাকেন । তাঁহাদের প্রবৃত্তি যাহাতে লোভী হইতে না পারে, এইজন্য অতি যত্নের সহিত লোভের পথই তাহারা রুদ্ধ করিয়া দেন । ইহাতে এই সুফল দর্শে যে, হারামের লোভ হইতে তাঁহারা পূর্ণভাবে অব্যাহতি লাভ করেন । এইদিকে লক্ষ্য রাখিয়াই হযরত ওমর (রা) বলেন- "হারামে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় আমি সত্তর বার হালাল দ্রব্য হইতেও হস্ত সংকুচিত করিয়া লই ।” আবার দেখ, হালাল দ্রব্য উপভোগ করিলেও মানব এক সুন্দর আস্বাদ লাভ করে । ফলে সংসারের প্রতি হৃদয়ের অনুরাগ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পরিশেষে মন সংসারে আবদ্ধ হ...

চরিত্র সংশোধন (৩১) প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ আন্তরিক রোগের মহৌষধ ও শ্রেষ্ঠ জিহাদ

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩১) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ আন্তরিক রোগের মহৌষধ ও শ্রেষ্ঠ জিহাদ- চিকিৎসায় সুফল লাভ করিতে হইলে প্রথমেই রোগ নির্ণয় করিয়া লওয়া দরকার । রোগ না চিনিয়া ঔষধ প্রয়োগ করা যায় না । প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করাই সর্ববিধ হৃদরোগের মহৌষধ । এইজন্য আল্লাহ্ বলেন : “এবং যে ব্যক্তি (স্বীয়) আত্মাকে কু-প্রবৃত্তি হইতে দমিত রাখিয়াছে অবশ্যই বেহেশত তাহার বাসস্থান” (সূরা নাযিআত, রুকু ২) । একদা রাসূলে মাক্বূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) জিহাদ হইতে প্রত্যাবর্তন করত সাহাবা (রা)-কে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন- “আমরা ক্ষুদ্র জিহাদে জয়ী হইয়া আসিলাম, না বৃহৎ জিহাদে ?” সাহাবা (রা) নিবেদন করিলেন- “ইয়া রসূলাল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম), বৃহৎ জিহাদ কাহাকে বলে ?” রাসূলে মাবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলিলেন- “প্রবৃত্তির সঙ্গে লড়াই করাকে বৃহৎ জিহাদ বলে ৷” রাসূলে মাবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন- “পরিশ্রমে তোমরা দুঃখিত হইও না এবং আল্লাহ্'র অবাধ্যতায় তোমরা মনকে মোটেই অবকাশ দিও না । যদি দাও, তবে তাহাক...

চরিত্র সংশোধন (৩০) স্বীয় দোষ অনুসন্ধান আবশ্যক

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩০) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   স্বীয় দোষ অনুসন্ধান আবশ্যক যে ব্যক্তি অত্যন্ত নির্বোধ কেবল সেই নিজেকে দোষমুক্ত বলিয়া মনে করে । বুদ্ধিমানগণ নিজদিগকে এইরূপ দোষমুক্ত বলিয়া ধারণা করেন না । একদা হযরত ওমর (রা) হযরত হুযায়ফা (রা) -কে জিজ্ঞাসা করিলেন “রাসূলে মাবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আপনার নিকট মুনাফিকদের প্রকৃত পরিচয় প্রদান করিয়াছেন । আপনি তাহাদের নিদর্শনাবলীর কোনটি আমার মধ্যে দেখিতে পাইতেছেন কি ? " এইরূপে প্রত্যেকেরই স্বীয় দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করিয়া দেখা আবশ্যক । পরবর্তী পর্ব প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ আন্তরিক রোগের মহৌষধ ও শ্রেষ্ঠ জিহাদ

চরিত্র সংশোধন (২৯) রোগ চিনিবার কৌশল

Image
  চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৯) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   রোগ চিনিবার কৌশল- চারিটি উপায়ে আন্তরিক রোগ বা নিজের দোষ-ত্রুটি বুঝিতে পারা যায় ৷ প্রথম- কামিল পীরের সংসর্গে থাকিলে তিনি তাহার দোষ-ত্রুটি প্রদর্শন করিয়া তাহাকে সাবধান করিয়া দিতে পারেন; কিন্তু বর্তমান যমানায় এইরূপ কামিল পীর অতি বিরল । সুতরাং এই উপায়ের সুবিধা বর্তমানে নিতান্ত দুর্লভ । দ্বিতীয়- কোন সদয় ধর্মবন্ধুকে নিজের দোষ-ত্রুটি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত করা । যে ব্যক্তি স্নেহের বশবর্তী হইয়া মিষ্টবচনে দোষ লুক্কায়িত করিবেন না, বা হিংসার বশবর্তী হইয়া নগণ্য দোষ অতিরঞ্জিত করিয়া বাড়াইয়া তুলিবেন না, এইরূপ আল্লাহ্ ভীরু লোককে নিজের দোষ পর্যবেক্ষকরূপে নিয়োগ করিতে হইবে । কিন্তু এরূপ বন্ধুও বর্তমান যমানায় নিতান্ত দুষ্প্রাপ্য । হযরত দাউদ তায়ীকে (র) কেহ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল- “আপনি লোক সংসর্গে থাকেন না কেন ?” তিনি উত্তরে বলিলেন- “যাহারা আমার নিকট হইতে আমার দোষ লুক্কায়িত করিবে, তাহাদের সংসর্গে থাকিয়া আমার কি লাভ ।” তৃতীয়- শত্রুগণ তোমার সম্বন্ধে যাহা বলে তাহা শ্রবণ কর । শত্রুগ...

চরিত্র সংশোধন (২৮) হৃদয় পীড়িত হওয়ার প্রমাণ

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৮) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) হৃদয় পীড়িত হওয়ার প্রমাণ আল্লাহ্'র আজ্ঞাবহ হওয়া মানবের পক্ষে পরম সৌভাগ্যের বিষয় । কাজেই তাঁহার প্রতিটি আদেশ পালনে অসীম আনন্দ লাভ করা স্বাভাবিক ব্যাপার । কিন্তু যে ব্যক্তি ইহাতে আনন্দ অনুভব করে না তাহার হৃদয় রোগাক্রান্ত হইয়া পড়িয়াছে । আল্লাহ্'র আদেশ পালনে আনন্দ না পাওয়াই হৃদয় পীড়িত হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ । মানুষ নিজের দোষ-ত্রুটি দেখিতে পায় না । সে স্বীয় পীড়া সম্বন্ধে অজ্ঞাত থাকিলেও তাহার হৃদয়ে রোগ জন্মিয়াছে ধরিয়া লইয়া তাহার চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করিতে হইবে । পরবর্তী পর্ব রোগ চিনিবার কৌশল

চরিত্র সংশোধন (২৭) অবিকৃত হৃদয়ের নিদর্শন

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৭) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অবিকৃত হৃদয়ের নিদর্শন দুইটি নিদর্শন দ্বারা হৃদয়ের অবস্থা নির্ণয় করা চলে; প্রথম, ইরাদা বা বাসনা, দ্বিতীয়, কুদরত বা শক্তি । এস্থলে ইরাদা অর্থে আল্লাহ্‌কে তাহা ব্যতীত অন্যান্য সকল পদার্থ অপেক্ষা অধিক ভালবাসিবার বাসনাকে বুঝিতে হইবে । পানাহার যেমন শরীরের খাদ্য, মা'রিফাত অর্থাৎ আল্লাহ্'র পরিচয় জ্ঞান তদ্রূপ হৃদয়ের খাদ্য । যে ব্যক্তির পানাহারের বাসনা একেবারে বিলুপ্ত হইয়াছে বা হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়াছে, মনে করিবে, তাহার শরীরে রোগ উৎপন্ন হইয়াছে । তদ্রূপ যে হৃদয় হইতে আল্লাহ্'কে জানিবার ও তাঁহাকে ভালবাসিবার বাসনা বিলুপ্ত হইয়াছে বা হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়াছে, মনে করিবে যে, সেই হৃদয়ও রোগাক্রান্ত হইয়াছে ।"  তাই আল্লাহ্ বলেন “হে নবী, আপনি বলুন, তোমাদের পিতৃগণ, ভ্রাতৃগণ, স্ত্রী সকল এবং তোমারে আত্মীয়গণ এবং ধন-সম্পত্তি যাহা (তোমরা) উপার্জন করিয়াছ এবং বাণিজ্য যাহার বন্ধ হওয়াকে ভয় করিতেছ এবং যে ঘরগুলি পছন্দ করিতেছ, (এ সমুদয়) যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল এবং তাঁহার পক্ষে জিহাদ ক...

চরিত্র সংশোধন (২৬) আন্তরিক রোগ নির্ণয়ের উপায়

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৬) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) আন্তরিক রোগ নির্ণয়ের উপায় দেহ, হস্তপদ, চক্ষু ইত্যাদি সুস্থ আছে, না রোগাক্রান্ত হইয়াছে, বুঝিতে হইলে দেখিতে হইবে, যে কাজের জন্য ঐ অঙ্গ সৃজন করা হইয়াছে, তদ্বারা তাহা অনায়াসে সুসম্পন্ন হইতেছে কিনা । অনায়াসে সম্পন্ন হইতেছে দেখিলেই মনে করিতে হইবে, উহা সুস্থ আছে । চক্ষু দিয়া যদি অনায়াসে সুন্দররূপে দর্শন করা যায়, কর্ণ দিয়া যদি অনায়াসে সুন্দররূপে শ্রবণ করা যায় তবেই মনে করিবে যে, ইহারা রোগাক্রান্ত হয় নাই । দেলকে যেভাবে ও যে কার্যের জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে তাহা যদি ঠিক সেইভাবে থাকে ও ঐ কার্য তদ্বারা অনায়াসে সুসম্পন্ন হয় তবে মনে করিবে দেলও সুস্থ আছে । সৃজনেরকালে দেলের যে ভাব বা গুণ ছিল তাহা বিশুদ্ধ ও অবিকৃত থাকিলেই সে তাহার কাজ সহজে আনন্দের সহিত করিতে পারিবে । পরবর্তী পর্ব অবিকৃত হৃদয়ের নিদর্শন

চরিত্র সংশোধন (২৫) রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা দুর্দমনীয় রিপু

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৫) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)   রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা দুর্দমনীয় রিপু ভোজন-লালসা ও ধনাসক্তি তত বড় রিপু নহে । যশ ও প্রশংসা লাভের আশায় উহা পরিত্যাগ করিবার কষ্ট সহ্য করা চলে । কিন্তু উহার চেয়ে অত্যন্ত প্রবল রিপুও মানব অন্তরে বিদ্যমান আছে । ভোজন-লালসা, ধনাসক্তি ইত্যাদি রিপুসমূহকে সাপ-বিচ্ছুর সহিত তুলনা করিলে রিয়া বা সুখ্যাতি প্রিয়তা ও প্রদর্শনেচ্ছাকে নিঃসন্দেহে ভীষণ বিষধর অজগরের সহিত তুলনা করা চলে । সমস্ত রিপু দমন হইয়া গেলেও রিয়া রিপু মানব মনে দুর্দমনীয়রূপে থাকিয়া যায় ৷ সকল রিপু চূর্ণ করিবার পরও ধর্মপরায়ণ লোকদিগকে রিয়া দমন করিতে অত্যন্ত কষ্ট করিতে হয় । আর এই রিপুকে দমন করিতে পারিলেই মানব ধর্মপথের সর্বোচ্চ সোপানে আরোহণ করিতে পারে ৷ পরবর্তী পর্ব আন্তরিক রোগ নির্ণয়ের উপায়

চরিত্র সংশোধন (২৪) চরিত্র সংশোধনের উপায়

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৪) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) চরিত্র সংশোধনের উপায়- চরিত্র সংশোধনের কার্যে অতি কঠোর সাধনা ও পরিশ্রম করিতে হয় । ইহা এত কঠিন ও দুঃসাধ্য যে, ইহাতে মৃত্যুযন্ত্রণার ন্যায় যাতনা রহিয়াছে । এতদ্‌সত্ত্বেও কামিল পীর বা সুনিপুণ অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের নির্দেশ অনুসারে চলিলে কাজটি অনায়াসসাধ্য হইয়া যায় । কামিল পীর প্রথমেই স্বীয় মুরীদকে আল্লাহ্'র হাকীকতের দিকে আহ্বান করেন না, কারণ তখনও তাহার এই শিক্ষা গ্রহণের শক্তি অর্জিত হয় নাই । উদাহরণস্বরূপ লক্ষ্য কর, শৈশবকালে বালক-বালিকাদিগকে বিদ্যালয়ে পাঠাইবার সময় তাহাদিগকে প্রভুত্ব, প্রতিপত্তি বা রাজত্বের প্রলোভন দেখাইলে কোনই ফল হয় না; কারণ প্রভুত্ব, প্রতিপত্তি বা রাজত্ব যে কি পদার্থ তাহারা তখনও উপলব্ধি করে নাই । তাহারা যাহার আস্বাদ লাভ করিয়াছে এবং যাহা বুঝে তাহার প্রলোভন দিলেই সুফল দর্শে । বরং শিশুদিগকে যদি বল, “বাপু, বিদ্যালয়ে গমন কর, পড়া শেষ হইলে শিক্ষক মহাশয় তোমাকে ডাণ্ডা-গুলী খেলিতে দিবেন এবং আমিও তোমাকে একটি শুক পাখি ক্রয় করিয়া দিব,” তাহা হইলে এই প্রলোভনে শিশু অবশ্যই বিদ্...

চরিত্র সংশোধন (২৩) তাওহীদের মরতবা অর্জন রিয়াযতের লক্ষ্য

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৩) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) তাওহীদের মরতবা অর্জন রিয়াযতের লক্ষ্য উল্লিখিত বর্ণনা হইতে মোটামুটি উপলব্ধি করিতে পারিয়াছ যে, রিয়াযত বা চরিত্র সংশোধনের জন্য যে সমস্ত চেষ্টা-তদবীর, পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার করিতে হয়, উহার একমাত্র লক্ষ্য তাওহীদ বা একত্ব বিশ্বাসের মরতবা লাভ করা । একমাত্র তাওহীদের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া পথ চলিতে চলিতে এমন এক অবস্থায় উপনীত হইবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুই তোমার দৃষ্টিগোচর হইবে না, একমাত্র তাঁহার ইবাদতেই মশগুল থাকিবে এবং তাহা ব্যতীত অন্য কাহারও আকাঙ্ক্ষা তোমার হৃদয়ে থাকিবে না । এইরূপ ভাবপ্রাপ্ত হইলেই সৎস্বভাবসমূহ মানুষের অর্জিত হয় এবং মানবীয় নিকৃষ্ট প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠিয়া মানুষ হাকীকত অর্থাৎ যথার্থ অবস্থায় উন্নীত হইতে পারে । পরবর্তী পর্ব চরিত্র সংশোধনের উপায়

চরিত্র সংশোধন (২২) দুনিয়া বর্জনে মধ্যপন্থা

Image
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২২) সৌভাগ্যের পরশমণি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) দুনিয়া বর্জনে মধ্যপন্থা ধন-সম্পত্তি ও যশ-প্রতিপত্তির আসক্তি ছিন্ন করিয়া ফেলিলে মন পাক-পবিত্র হইতে পারে । কিন্তু এই জড় জগতে জীবন ধারণের জন্য স্বাভাবিক ক্ষুৎপিপাসা ইত্যাদি যে সকল চিন্তা হইতে মানবমন একেবারে মুক্ত হইতে পারে না তৎসমুদয় মধ্যপথ গ্রহণ করা উচিত । তাহা হইলে মনের উপর উহাদের কোন প্রভাব আছে বলিয়াই মনে হইবে না । উপমাস্বরূপ, পানি কখনও শীততাপ হইতে সম্পূর্ণ শূন্য হইতে পারে না । কিন্তু মধ্যমাবস্থা প্রাপ্ত হইলে ইহাকে শীততাপশূন্য বলিয়া মনে হয় । মানব প্রবৃত্তি সম্পর্কে যে মধ্যপথ গ্রহণের নির্দেশ রহিয়াছে ইহাই তাহার তাৎপর্য । অতএব দুনিয়ার সকল সম্পর্ক ছিন্ন করিয়া মানবমন যেন কেবল আল্লাহতে নিমজ্জিত থাকিতে পারে তৎপ্রতি মানুষের যত্নবান হওয়া আবশ্যক । এইজন্যই আল্লাহ্ আদেশ করিয়াছেন “বল, আল্লাহ্, অনন্তর আর সমস্ত পরিত্যাগ কর ।” এই পবিত্র আয়াতে কলেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ - এর হাকীকত বর্ণিত হইয়াছে । যাহা হউক, যাবতীয় দোষ-ত্রুটি ও মলিনতা হইতে সম্পূর্ণরূপে পাক-পবিত্র হওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভবপর ন...