চরিত্র সংশোধন (২৭) অবিকৃত হৃদয়ের নিদর্শন

চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৭)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

অবিকৃত হৃদয়ের নিদর্শন
দুইটি নিদর্শন দ্বারা হৃদয়ের অবস্থা নির্ণয় করা চলে; প্রথম, ইরাদা বা বাসনা, দ্বিতীয়, কুদরত বা শক্তি । এস্থলে ইরাদা অর্থে আল্লাহ্‌কে তাহা ব্যতীত অন্যান্য সকল পদার্থ অপেক্ষা অধিক ভালবাসিবার বাসনাকে বুঝিতে হইবে । পানাহার যেমন শরীরের খাদ্য, মা'রিফাত অর্থাৎ আল্লাহ্'র পরিচয় জ্ঞান তদ্রূপ হৃদয়ের খাদ্য । যে ব্যক্তির পানাহারের বাসনা একেবারে বিলুপ্ত হইয়াছে বা হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়াছে, মনে করিবে, তাহার শরীরে রোগ উৎপন্ন হইয়াছে । তদ্রূপ যে হৃদয় হইতে আল্লাহ্'কে জানিবার ও তাঁহাকে ভালবাসিবার বাসনা বিলুপ্ত হইয়াছে বা হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়াছে, মনে করিবে যে, সেই হৃদয়ও রোগাক্রান্ত হইয়াছে ।"  তাই আল্লাহ্ বলেন “হে নবী, আপনি বলুন, তোমাদের পিতৃগণ, ভ্রাতৃগণ, স্ত্রী সকল এবং তোমারে আত্মীয়গণ এবং ধন-সম্পত্তি যাহা (তোমরা) উপার্জন করিয়াছ এবং বাণিজ্য যাহার বন্ধ হওয়াকে ভয় করিতেছ এবং যে ঘরগুলি পছন্দ করিতেছ, (এ সমুদয়) যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল এবং তাঁহার পক্ষে জিহাদ করা অপেক্ষা প্রিয়তর হয়, তবে ঐ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা কর যে, আল্লাহ্ নিজের হুকুম উপস্থিত করেন” ( সূরা তওবা, রুকু ৩) । কুদরত অর্থে বুঝিতে হইবে যে, আল্লাহ্'র আজ্ঞা পালনে যে শক্তি প্রয়োগ করিতে হয় তাহা যেন স্বাভাবিকভাবে ও অনায়াসে হইয়া যায় এবং প্রবৃত্তির উপর বলপ্রয়োগ করিয়া ধরিয়া বাঁধিয়া নিজের দ্বারা পালন করিয়া না লইতে হয় এবং আরাম ও আনন্দ, যওক-শওকের সহিত অনায়াসে ও স্বাভাবিকভাবে আল্লাহ্'র আদেশ পালন করে । তাহা হইলে ক্রমে আল্লাহ্'র আদেশ পালনের আনন্দ এত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় যে, ইহার সহিত আদেশ পালনের শক্তিও উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইতে থাকে । এই দিকে লক্ষ্য করিয়াই রাসূলে মাবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন “নামাযকে আমার চোখের পুতলি করা হইয়াছে ।” ইহার অর্থ এই যে, তিনি নামাযে অসীম আনন্দ লাভ করিতেন ।

পরবর্তী পর্ব

Comments