চরিত্র সংশোধন (৩২) প্রবৃত্তি দমনের উপকারিতা
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩২)
প্রবৃত্তি দমনের উপকারিতা
যদিও জঙ্গলের ডালিম বৈধ ও ইহা ভক্ষণে কোন অন্যায় নাই, তথাপি ধর্মপরায়ণ সতর্ক ব্যক্তিগণ হালাল ও হারাম, এই উভয়ের লোভকে সমান অনিষ্টকর বলিয়া মনে করেন । তুমি যদি লোভ দমন না কর ও নিতান্ত প্রয়োজনীয় অভাব অপসারণ করিয়া সন্তুষ্ট না হইতে পার, তবে তোমার প্রবৃত্তি অত্যন্ত লোভী হইয়া যাইবে এবং অবশেষে তোমার নিকট হারাম বস্তু যাচ্ঞা করিতে থাকিবে । এইজন্য সতর্ক ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ হালাল বস্তুর লোভও বর্জন করিয়া থাকেন । তাঁহাদের প্রবৃত্তি যাহাতে লোভী হইতে না পারে, এইজন্য অতি যত্নের সহিত লোভের পথই তাহারা রুদ্ধ করিয়া দেন । ইহাতে এই সুফল দর্শে যে, হারামের লোভ হইতে তাঁহারা পূর্ণভাবে অব্যাহতি লাভ করেন । এইদিকে লক্ষ্য রাখিয়াই হযরত ওমর (রা) বলেন- "হারামে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় আমি সত্তর বার হালাল দ্রব্য হইতেও হস্ত সংকুচিত করিয়া লই ।”
আবার দেখ, হালাল দ্রব্য উপভোগ করিলেও মানব এক সুন্দর আস্বাদ লাভ করে । ফলে সংসারের প্রতি হৃদয়ের অনুরাগ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পরিশেষে মন সংসারে আবদ্ধ
হইয়া যায় । তখন সংসার তাহার নিকট বেহেশতের মত সুন্দর বলিয়া মনে হয় এবং সে মৃত্যুকে অতি কঠোর বলিয়া ভয় করিতে থাকে; অতি সুখ ও আনন্দের লিপ্সায় যে উন্মত্ত হইয়া থাকে, তাহার মনে চিন্তাশূন্যতা দেখা দেয়; আল্লাহ্'র যিকির ও মুনাজাত করিলেও সে উহার মাধুর্য এবং স্বাদ অনুভব করিতে পারে না । নিজকে হালাল দ্রব্য ভোগ করিতে না দিলে হৃদয় বিষণ্ণ হয় ও মন ভাঙ্গিয়া পড়ে, সংসারের প্রতি মন অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হয় এবং পরকালের পরম সৌভাগ্য ও চরম আনন্দ লাভের নিমিত্ত হৃদয় অস্থির ও ব্যাকুল হয়ে উঠে । এইরূপ ভগ্নহৃদয়ের এক তসবীহ্ মনের উপরে যেরূপ প্রভাব বিস্তার করে, সুখের সময়ের শত শত তসবীহ্ এইরূপ প্রভাব বিস্তার করিতে সমর্থ হয় না ।
পরবর্তী পর্ব
একমাত্র আল্লাহ্-প্রেমের পথ উন্মুক্ত রাখা কর্তব্য

Comments
Post a Comment