চরিত্র সংশোধন (১২) কুপথ্যে লালসা পীড়ার লক্ষণ


চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ১২)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

কুপথ্যে লালসা পীড়ার লক্ষণ-
হৃদয় ও দেহ উভয়ের জন্যই এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য । আল্লাহ্র মা'রিফাত অর্থাৎ তাঁহার পরিচয়লাভ ও তাঁহার আনুগত্য স্বীকার, ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাধীন রাখা ইত্যাদি বৃত্তিসমূহ মানবহৃদয়ের স্বাভাবিক ধর্ম ফেরেশ্তাদের স্বভাবেও এইগুলি রহিয়াছে । এই সুপ্রবৃত্তিগুলিই হৃদয়ের খাদ্য । এই সমস্ত নিয়মিতরূপে বিকশিত ও স্ফূর্ত হইলেই মানব-হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি পায় । কখন কখনও এই স্বাভাবিক বৃত্তিসমূহের উলটা দিকেও মানব হৃদয়ের অনুরাগ ও আকর্ষণ পরিলক্ষিত হয় । হৃদয়ের ব্যাধি হইতেই এই বিরুদ্ধ ভাব-প্রবণতা জন্মিয়া থাকে । শারীরিক ব্যাধি হইলে যেমন মানবের স্বাভাবিক পানাহারে রুচি থাকে না, বরং ধ্বংসকারী কুপথ্যের দিকে লালসা ও মনের টান বৃদ্ধি পায়; হৃদয়ের ব্যাধি হইলেও ঠিক তদ্রূপ হইয়া থাকে । হৃদয় পীড়িত হইলেও কল্যাণকর সুপথ্য পরিত্যাগ করিয়া ধ্বংসকারী কুপথ্য ভোজনে মন অধিক লালায়িত হইয়া উঠে । আল্লাহ্'র মা'রিফাত লাভ ও তাঁহার আদেশ পালনে বিরত হইয়া মানব মন যখন অন্যান্য বিষয়ের দিকে অনুরক্ত হইয়া পড়ে, তখন মনে করিবে যে হৃদয় পীড়িত হইয়াছে । এই মারাত্মক ব্যাধির কথাই পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ্ বলিতেছেন "তাহাদের অন্তঃকরণসমূহে ভীষণ ব্যাধি রহিয়াছে ।” "তবে যে ব্যক্তি আল্লাহ্'র নিকটে নির্মল ও সুস্থ হৃদয় উপস্থিত করিবে।” ( সূরা শুয়ারা রুকু ৫ ) । দৈহিক ব্যাধি যেমন ইহলৌকিক জীবনে ধ্বংস ও দুর্দশা আনয়ন করে, হৃদয়ের ব্যাধিও তদ্রূপ পারলৌকিক জীবনে বিনাশ ও দুর্দশা আনয়ন করে । চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে তিক্ত ও বিস্বাদ ঔষধ সেবন না করিলে যেমন শারীরিক ব্যাধি হইতে আরোগ্য লাভ করিয়া সুস্থ হওয়া যায় না, তদ্রূপ কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করিয়া শরীয়তের নির্দেশ অনুসারে না চলিলেও হৃদয়ের ব্যাধি দূর করিয়া সুস্থ হৃদয় লাভ করা যায় না ।

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক