চরিত্র সংশোধন (৯) স্বভাব অনুসারে মানুষের শ্রেণীবিভাগ



চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৯)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

স্বভাব অনুসারে মানুষের শ্রেণীবিভাগ
স্বভাব অনুসারে মানুষকে চারি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ।
প্রথম : স্বচ্ছ অন্তরবিশিষ্ট লোক অর্থাৎ এখন পর্যন্ত যাহার অন্তরে ভাল বা মন্দের কোন প্রভাব বা ছায়া পতিত হয় নাই এবং যেভাবে জন্মগ্রহণ করিয়াছে সেইভাবেই রহিয়াছে । কোটি ভাল, কোন্‌টি মন্দ কিছুই বুঝে নাই এবং সৎ বা অসৎ কোন কার্যেরই অভ্যাস হয় নাই । এরূপ স্বচ্ছ অন্তর দেখাদেখি বা সংসর্গক্রমে পারিপার্শ্বিকতার আচরণ ও ছায়া অতি তাড়াতাড়ি গ্রহণ করিতে পারে । সে যাহা দেখে । বা শুনে তাহা অতি শীঘ্র তাহার হৃদয়ে অঙ্কুরিত হয় । তাহার জন্য একজন উপযুক্ত সুশিক্ষকের প্রয়োজন যিনি তাহাকে তা'লীম দিবেন, অসৎ স্বভাবের আপদসমূহ তাহার নিকট বর্ণনা করিবেন । মানব সন্তানের হৃদয় শৈশবকালে এরূপ স্বচ্ছই থাকে । তৎপর মাতাপিতা ও পরিবারস্থ ব্যক্তিগণ তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করত তাহাদের অন্তরে সংসারাসক্তি জন্মাইয়া তাহাদিগকে সেই প্রবৃত্তির উপর স্বাধীনভাবে ছাড়িয়া দেয় । ফলে তাহারা যদৃচ্ছভাবে জীবনযাপন করিতে থাকে । সন্তানাদির ধর্মরক্ষার দায়িত্ব পিতামাতার উপর অর্পিত হইয়াছে । এইজন্যই আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিজকে এবং তোমাদের পরিজনবর্গকে দোযখের অগ্নি হইতে বাঁচাও ।”

দ্বিতীয় : যাহার অন্তরে এখন পর্যন্ত ভ্রমাত্মক বিশ্বাস স্থান লাভ করে নাই, কিন্তু দীর্ঘকাল ক্রোধ ও লোভের আজ্ঞাবহ থাকার দরুন উহা তাহার অন্তরে প্রবল হইয়া উঠিয়াছে এবং ইহার উপর অবাধ প্রভুত্ব চালাইতেছে । ইহা সত্ত্বেও সে বেশ বুঝিতে পারে যে, সে যাহা করিতেছে, তাহা ভাল নহে । এরূপ লোককে পুনরায় সুপথে আনয়ন করা কঠিন হইলেও অসাধ্য নহে । তাহাকে সুপথে ফিরাইয়া আনিতে হইলে দুইটি পন্থা অবলম্বন করিতে হইবে । যথা (১) কুঅভ্যাসগুলি একেবারে পরিত্যাগ করিতে হইবে । (২) আত্মসংশোধনের বীজ অন্তরে বপন করিতে হইবে । আত্মসংশোধনের আগ্রহ ও চেষ্টা নিজ হইতেই হৃদয়ে জন্মিলে তাড়াতাড়ি খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ করত সৎপথে প্রত্যাবর্তন সহজসাধ্য হইবে ।

তৃতীয় : যে ব্যক্তি অহরহ কুকর্ম করে ও যাহার অন্তরে এই অভ্যাস বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছে; এই সমস্ত কর্ম করা যে অন্যায় ইহ্য সে উপলব্ধিই করিতে পারে না এবং তাহার দৃষ্টিতে মন্দকার্য ভাল বলিয়া মনে হয় । এই শ্রেণীর লোক অতি অল্পই সুপথে ফিরিয়া আসিতে সমর্থ হয় ।

চতুর্থ : যে ব্যক্তি মন্দকার্যকে উত্তম মনে করিয়া অহরহ করিতে থাকে এবং মন্দকার্য করিয়া আত্মগৌরবে বাহাদুরী প্রদর্শন করে; যথা আমি এতগুলি লোককে হত্যা করিয়াছি; এত পরিমাণ মদ্য পান করিয়াছি ইত্যাদি । এই শ্রেণীর লোক অতি কঠিন রোগে আক্রান্ত, ইহার কোন প্রতিকার নাই । একমাত্র অপার করুণাময় আল্লাহ্র অযাচিত রহমত তাহার উপর বর্ষিত হইলে সে সুপথে ফিরিয়া আসিতে পারে, অন্যথায় নয় ।

পরবর্তী পর্ব

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক