চরিত্র সংশোধন (৩) সৎস্বভাবের হাকীকত
সৎস্বভাবের হাকীকত
আলিমগণ সৎস্বভাবের মূলতত্ত্ব ও পরিচয় দিতে যাইয়া বিভিন্নরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। যিনি যাহা বুঝিয়াছেন তিনি তাহাই তাহাই বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইহার পূর্ন পরিচয় কেহই প্রদান করেননাই। কেহ প্রসন্ন বদনকে সৎস্বভাবের নিদর্শন বলিয়া বর্ণন করিয়াছেন। কেহ অপরের প্রদত্ত যাতনাকে সহ্য করাকে সৎস্বভাবের নিদর্শন বলিয়াছেন। কেহবা প্রতিশোধ গ্রহন না করাকে সৎস্বভাবের চিহ্ন বলিয়াছেন। এই রুপে যাহার হৃদয়ে যেরূপ উদয় হইয়াছে, তিনি সেইভাবেই সৎস্বভবের লক্ষণাদি বর্ণনা করিয়াছেন। বস্তুত এই সকল সৎসভাবের শাখা প্রশাখা মাত্র; ইহার পূর্ণ পরিচয় নহে। আমরা ইহার পূর্ন পরিচয় প্রদানের চেষ্টা করব।
দুই প্রকার বস্তু দিয়া আল্লাহ্ মানব জাতীকে সৃষ্টি করিয়াছেন; তার একটি শরীর অপরটি আত্মা। চর্ম চক্ষু দ্বারা আমরা শরীর দেখিতে পারি কিন্তু জ্ঞান চক্ষু ব্যতীত আত্মার দর্শন লাভ করিতে পারিনা। এর উভয় বস্তুই অবস্থা বিশেষে সুন্দর হইয়া থাকে, আবার অবস্থা বিশেষে কুশ্রী হয়। দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমুহ সুশ্রী হইলে ইহাকে শারীরিক সৌন্দর্য বলে, আর অন্তরের আভ্যন্তরীন আকৃতি সুশ্রী হইলে ইহাকে স্বভাব সৌন্দর্য বলে।
শুধু শরীরের অঙ্গবিশেষ যেমন, চক্ষু ওষ্ট ইত্যদি যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দর ও অপরের মিল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হইলেই তাহকে সর্বাঙ্গ সুন্দর বলা যাইতে পারে। তদ্রূপ মানব হৃদয়ের বৃত্তিসমূহ ঠিকভাবে বিকাশপ্রাপ্ত না হইলে সেই হৃদয়কেও সুন্দর বলিয়া অভিহিত করা যাইতে পারেনা।
*********************

Comments
Post a Comment