চরিত্র সংশোধন (২৯) রোগ চিনিবার কৌশল

 

চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২৯)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

 রোগ চিনিবার কৌশল-
চারিটি উপায়ে আন্তরিক রোগ বা নিজের দোষ-ত্রুটি বুঝিতে পারা যায় ৷ প্রথম- কামিল পীরের সংসর্গে থাকিলে তিনি তাহার দোষ-ত্রুটি প্রদর্শন করিয়া তাহাকে সাবধান করিয়া দিতে পারেন; কিন্তু বর্তমান যমানায় এইরূপ কামিল পীর অতি বিরল । সুতরাং এই উপায়ের সুবিধা বর্তমানে নিতান্ত দুর্লভ । দ্বিতীয়- কোন সদয় ধর্মবন্ধুকে নিজের দোষ-ত্রুটি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত করা । যে ব্যক্তি স্নেহের বশবর্তী হইয়া মিষ্টবচনে দোষ লুক্কায়িত করিবেন না, বা হিংসার বশবর্তী হইয়া নগণ্য দোষ অতিরঞ্জিত করিয়া বাড়াইয়া তুলিবেন না, এইরূপ আল্লাহ্ ভীরু লোককে নিজের দোষ পর্যবেক্ষকরূপে নিয়োগ করিতে হইবে । কিন্তু এরূপ বন্ধুও বর্তমান যমানায় নিতান্ত দুষ্প্রাপ্য । হযরত দাউদ তায়ীকে (র) কেহ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল- “আপনি লোক সংসর্গে থাকেন না কেন ?” তিনি উত্তরে বলিলেন- “যাহারা আমার নিকট হইতে আমার দোষ লুক্কায়িত করিবে, তাহাদের সংসর্গে থাকিয়া আমার কি লাভ ।” তৃতীয়- শত্রুগণ তোমার সম্বন্ধে যাহা বলে তাহা শ্রবণ কর । শত্রুগণ কেবল দোষই দেখিয়া থাকে । হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার বশবর্তী হইয়া তাহারা ক্ষুদ্র দোষকে লোকের নিকট বড় করিয়া প্রকাশ করিবে বটে, কিন্তু তথাপি তাহাদের উক্তিতে কিছু সত্য অবশ্যই থাকিবে । চতুর্থ- অন্যের দোষ-ত্রুটি দেখিয়া নিজের মধ্যে এইরূপ দোষ-ত্রুটি আছে কিনা অনুসন্ধান করিয়া দেখিবে এবং থাকিলে সযত্নে উহা পরিত্যাগ করিবে । আর এরূপ দোষ-ত্রুটি না থাকিলেও নিজকে নির্দোষ বলিয়া মনে করিবে না এবং সর্বদা সচেতন ও সতর্ক থাকিবে যেন বিবিধ দোষ-ত্রুটি তোমাকে কখনও স্পর্শ করিতে না পারে । হযরত ঈসা (আ)-কে কেহ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল- “আপনি এত উত্তম শিষ্টাচার কাহার নিকট হইতে শিখিলেন ?” তিনি বলিলেন- “কাহারও নিকট হইতে শিক্ষা করি নাই, তবে অপরের মধ্যে যে দোষ-ত্রুটি লক্ষ্য করিয়াছি উহা তৎক্ষণাত সযত্নে বর্জন করিয়াছি ।”

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক