চরিত্র সংশোধন (৩৩) একমাত্র আল্লাহ্-প্রেমের পথ উন্মুক্ত রাখা কর্তব্য
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৩৩)
একমাত্র আল্লাহ্-প্রেমের পথ উন্মুক্ত রাখা কর্তব্য
শিকারী বাজপাখির সঙ্গে মানব-প্রবৃত্তিকে তুলনা করা যাইতে পারে । বাজকে সুশিক্ষিত এবং আজ্ঞাধীন করিতে সমর্থ হইলেও ইহার সম্বন্ধে শিকারী উদ্বেগশূন্য হয় না; বরং শিকার ধরিয়া সে ঘরে ফিরিলে বাজের চক্ষুদ্বয় সেলাই করিয়া রাখে যেন অন্যান্য পদার্থ ইহার দৃষ্টিপথে পতিত না হয় । ইহার চক্ষু বন্ধ করিয়া না রাখিলে সে চতুস্পার্শ্বের দ্রব্যাদির প্রতি প্রলুব্ধ হইয়া শিকার ধরিবার শিক্ষা-দীক্ষা ভুলিয়া যাইতে পারে । এইরূপে চক্ষু বন্ধ রাখিয়া শিকারী প্রাণ রক্ষার জন্য বাজপাখিকে কিছু গোশত দেয় । মালিকের নিকট হইতে আহার্য পাইয়া বাজ তাহার প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট ও আজ্ঞাধীন হইয়া উঠে । শিকারী বাজকে যেরূপ সতর্কতার সহিত রাখে, মানব-প্রবৃত্তিকেও সেইরূপ সতর্কতার সহিত রাখা কর্তব্য । প্রবৃত্তিকে ইহার সমস্ত ভোগ্য দ্রব্য ও অভ্যাস হইতে বিরত রাখিয়া কেবল আল্লাহ্'র প্রতি তাহাকে আসক্ত ও অনুরক্ত রাখিতে হইবে । প্রবৃত্তির যাবতীয় অভ্যাস পরিত্যাগ না করিলে এবং চক্ষু, কর্ণ, রসনা বন্ধ করিয়া নির্জনতা অবলম্বনপূর্বক মনকে ক্ষুধা, নির্বাকতা ও অনিদ্রার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করত কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত না করিলে সে আল্লাহ্'র দিকে আকৃষ্ট হয় না । প্রাথমিক অবস্থায় ইহা খুব কষ্টসাধ্য বলিয়া মনে হইবে । প্রথম প্রথম দুগ্ধপোষ্য শিশুদেরকে মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানও দুঃসাধ্য হইয়া থাকে । কিন্তু কষ্টে-সৃষ্টে একবার দুধ ছাড়াইতে সমর্থ হইলে কিছু দিনের মধ্যে এমন হয় যে, বলপ্রয়োগে মাতৃস্তন দান করিলেও শিশু আর মাতৃদুগ্ধ পান করে না ।পরবর্তী পর্ব
রিয়াযতের বর্ণনার সারাংশ

Comments
Post a Comment