তওবার মকাম (পর্ব- ৬) গুনাহ্ থেকে মাফ চাওয়ার তরীকা
📚মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
গুনাহ্ থেকে মাফ চাওয়ার তরীকা—
পরিষ্কার কথা এই যে, যখন তুমি এ কাজ শুরু করবে এবং তোমার আত্মা পাপ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্রতা হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে তুমি দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, কিছুতেই আর গুনাহতে লিপ্ত হবে না, তখন লক্ষ্য করবে আত্মার পবিত্রতার সাথে সাথেই তোমার সংকল্পের দৃঢ়তার সততা কতটুকু? কারণ এক্ষেত্রে পূর্ণ সততা থাকা চাই। আর এদিকে যার হক নষ্ট হয়েছে তাকে যথাসম্ভব সন্তুষ্ট করে নেবে এবং অন্যান্য যেসব নিয়ম-পদ্ধতি বলা হয়েছে, তা পালন করবে। অবশিষ্ট গুনাহর জন্য আল্লাহ্ পাকের দরবারে রোনাজারী করবে, যাতে এ ব্যাপারে আর কোন খুঁত না থাকে। অতঃপর গোসল করে পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করবে। তারপর চার রাকাত নফল নামায আদায় করবে। এ নামাযের জায়গাটি হতে হবে খুবই নির্জন, কেবল আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ তোমাকে দেখতে পাবে না। তারপর আল্লাহ্ পাকের সামনে নিজের মস্তক সিজদাবনত করবে এবং মাথা ও চেহারায় মাটি মলতে হবে। যেহেতু তোমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে মুখমন্ডলই বেশি প্রিয় – এ জন্য মুখমণ্ডলে অধিক মাটি মাখবে। অপরদিকে তোমার চোখ দিয়ে অবিরল অশ্রুধারা নির্গত হতে থাকবে, হৃদয় থাকবে দুঃখে ভারাক্রান্ত। এমন অবস্থায় উপনীত হবে যে, সশব্দে কাঁদতে আরম্ভ করবে আর প্রতিটি গুনাহ্ কথা স্মরণ করে নফসকে অভিশাপ দিতে থাকবে।
আর নফসকে ডেকে বলবে, ওহে নফস। এখনো কি সচেতন হওয়ার সময় আসেনি? এখনো তওবার প্রয়োজন হয়নি? আল্লাহর আযাবের সামনে তুমি টিকতে পারবে? তোমার শক্তি কতটুকু? আল্লাহর অসন্তুষ্টিই কি তুমি কামনা কর? — এ ধরনের বহু কথা বলে ক্রন্দন করতে থাকবে। অতঃপর পরম - করুণাময়ের দরবারে মুনাজাতের জন্য হাত উঠাবে এবং বলবে : আয় আল্লাহ্ ! আপনার পলাতক বান্দা আজ আপনার সামনে হাযির হয়েছে। আপনার পাপী বান্দা আজ ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আপনারই নিকট ফিরে এসেছে। হে আল্লাহ্! আপনার পাপী বান্দা আজ ওযরসহ হাযির হয়েছে। আয় রহমানুর রহীম! আপনার অশেষ করুণায় সিক্ত করে আমাকে ক্ষমা করুন। আপনার অশেষ অনুগ্রহ দিয়ে আমার ওযর কবূল করুন। হে আল্লাহ্! আমার দিকে আপনার রহমতের দৃষ্টিতে দেন। আয় রাব্বুল আলামীন! আমার আগের সকল গুনাহ্ মাফ করে দেন এবং বাকি জীবনের জন্য আমাকে পাপ থেকে হেফাজত করুন। আয় আল্লাহ্ ! সকল উত্তম নিয়ামতের আপনিই মালিক। আপনিই দয়াবান ও করুণার আধার।
অতঃপর একান্ত সযত্নে নিম্নোক্ত দোয়া করবে :--
ওহে সর্বশক্তিমান। আপনি সকল কাজই তো করতে সক্ষম। ওহে ব্যথিতের আশ্রয়দাতা। আপনি যা বলেন তাহাই তো হয়ে যায়। আমি পাপচক্রে পতিত হয়েছি। পাপ আমাকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে নিয়েছে। আমি সকল পাপ-তাপ নিয়েই আপনার নিকট হাযির হয়েছি। আপনি আমার তওবা কবূল করুন- এ পাপচক্র - থেকে আমাকে উদ্ধার করুন। আপই তো তওবা কবুলকারী, আপনিই দয়াবান।
তারপর খুব অনুতাপ করবে এবং নিজের অসহায় অবস্থার বিষয় যতদূর সম্ভব প্রকাশ করতে থাকবে এবং বলবে : ওহে আল্লাহ্! কথা দিয়ে আপনাকে আকর্ষণ করার সাধ্য নেই বা কোন পরিস্থিতিই আপনাকে তার দিকে টেনে নিতে সক্ষম নয়। হে প্রভু! অতিরিক্ত সওয়াল করেও আপনাকে কেউ ভ্রান্তিতে নিপতিত করতে পারবে না কিংবা জোর করেও কেউ আপনার নিকট থেকে কিছু আদায় করতে সক্ষম হবে না। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে তোমার ক্ষমার যোগ্য করুন এবং আপনার করুণাধারায় সিক্ত করে আপনার মাগফিরাতের ছায়ায় স্থান দেন । হে প্রভু! আপনিই রহমানুর রহীম। আপনিই সর্বশক্তিমান।
অতঃপর : নবী আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম), উনার পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের প্রতি দরূদ পাঠ করবে। এরপর সকল মুমিন নর-নারীর জন্য মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
এভাবে তুমি তওবায়ে নসূহা সম্পন্ন করবে। এ তওবায়ে নসূহ্ তোমাকে এমনভাবে নিষ্পাপ করে দেবে যে, তুমি যেন আজই ভূমিষ্ঠ হয়েছ। আল্লাহ্ পাক তোমাকে তাঁর প্রেমের সৌভাগ্যে গৌরবান্বিত করবেন আর দান করবেন অসংখ্য সওয়াব ও পুরস্কার। তাছাড়া আল্লাহ পাক তোমার উপর তাঁর রহমত ও বরকতের এমন ধারা বর্ষণ করতে থাকবেন যে, কোন ভাষায় তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তুমি লাভ করবে শান্তি ও নিরাপত্তার মহান নিয়ামত আর পরিত্রাণ লাভ করবে আল্লাহর আযাব ও গযবের মহাবিপদ থেকে। তোমার দুনিয়া ও আখিরাত হবে শান্তিময় – শুধুই শান্তিময়। -
এমনিভাবেই তুমি আল্লাহর অনুমতিতে এ সংকটও অতিক্রম করে ফেলবে। মনে রাখবে, আল্লাহ্ই তাঁর করুণা ও অনুগ্রহ দিয়ে বান্দাকে হিদায়েত করে থাকেন।
এরপর আল্লাহর পথে ইবাদতের অভিযাত্রীকে বহুতরো বিপদের সম্মুখীন হতে হবে এবং ইবাদতে স্থিতিশীলতা হাসিলের জন্য এ সকল বিপদ অতিক্রম করতে হবে
পরবর্তী পর্ব

Comments
Post a Comment