চরিত্র সংশোধন (১৪) সৎস্বভাব অর্জনের উপায়
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ১৪)
সৎস্বভাব অর্জনের উপায়
সৎস্বভাব অর্জনের তিনটি উপায় আছে। জন্মগতভাবে প্রাপ্ত আল্লাহ্ প্রদত্ত স্বাভাবিক উপায় । পরম করুণাময় আল্লাহ্ অনুগ্রহপূর্বক মানব সৃজনের সময়েই সৎস্বভাবের মূলগুলি তাহার অন্তরে রোপণ করিয়া দিয়াছেন । উদাহরণস্বরূপ বলা যাইতে পারে যে, যাঁহারা শিষ্টাচারে অত্যন্ত উন্নত বা খুব উচ্চ শ্রেণীর দাতা তাঁহারা এই সমস্ত মহৎবৃত্তি লইয়াই জন্মগ্রহণ করিয়াছেন । এই স্বাভাবিক কারণের অস্তিত্ব অধিকাংশ স্থানে উজ্জ্বলভাবে পরিস্ফুট হইয়া উঠে ।
সৎস্বভাব অর্জনের দ্বিতীয় উপায়
যত্ন ও পরিশ্রমসাধ্য উপায় । কুপ্রবৃত্তির সহিত লড়াই করিয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিশেষ যত্ন ও পরিশ্রমের সহিত নিজেকে সর্বদা সৎকর্মে নিযুক্ত রাখিলে ক্রমশ সৎকর্মের অভ্যাস হৃদয়ে বদ্ধমূল হইয়া পড়ে ।
সৎস্বভাব অর্জনের তৃতীয় উপায়
সৎসংসর্গ । সৎস্বভাবী ব্যক্তির সংসর্গে থাকিলে অজ্ঞাতসারে তাঁহাদের সদ্গুণ স্বতঃই অন্তরে প্রবেশ লাভ করে । স্বভাবের তারতম্য হওয়ার কারণ— যে ব্যক্তি সৌভাগ্যক্রমে সৎস্বভাবের এই তিনটি উপায়ই লাভ করিয়াছেন, তিনি পূর্ণমাত্রায় সস্বভাব অর্জন করিবার সুবিধা পাইয়াছেন অর্থাৎ যাহার হৃদয়ে সৃষ্টির সময়েই সৎস্বভাবের মূলসমূহ রোপণ করিয়া দেওয়া হইয়াছে, যিনি সৎসংসর্গের সুযোগ লাভ করিয়াছেন এবং নিজেও চেষ্টা ও যত্নের সহিত সৎকর্মে অভ্যস্ত হইতে পারিয়াছেন, তিনি পরম সৌভাগ্য লাভের অধিকারী হইয়াছেন ।
অপরপক্ষে, যে ব্যক্তি এই তিনটি উপায় হইতেই বঞ্চিত রহিয়াছে অর্থাৎ সৃষ্টির সময়ে কুস্বভাবের মূলসমূহ অন্তরে লইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছে, অসৎলোকের সংসর্গে জীবন অতিবাহিত করিতেছে এবং নিজেও অসৎকর্মে অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছে, তাহার স্বভাবও পূর্ণতা লাভ করে, তবে ইহা খারাপের দিকে পূর্ণতা । মানবস্বভাবের উল্লিখিত দুইটি প্রান্ত আছে, একটি মন্দের দিকে শেষ প্রান্ত এবং অপরটি সুন্দরের দিকে শেষ প্রান্ত দুই প্রান্তের মধ্যে অসংখ্য দরজা বা সোপান আছে । সৎস্বভাব অর্জনের পূর্ববর্ণিত ত্রিবিধ উপায়ের তারতম্য অনুসারে মানুষ সেই সমস্ত সোপানের কোন না কোন সোপানে অবস্থান করে । যে ব্যক্তি যে পরিমাণে ঐ উপায়সমূহের একাংশ বা অধিকাংশ লাভে সমর্থ হয়, তাহার স্বভাবও সেই পরিমাণে সুন্দর বা কদর্য হইয়া থাকে । এইজন্যই পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ্ বলেন “অনন্তর যে ব্যক্তি রেণু পরিমাণ সৎকার্য করিবে, সে উহা দেখিতে পাইবে; আর যে ব্যক্তি রেণু পরিমাণ মন্দ কার্য করিবে, সে উহা দেখিতে পাইবে ।”
পরবর্তী পর্ব
আত্মার পাপ-পুণ্যের ফলভোগ

Comments
Post a Comment