চরিত্র সংশোধন (২১) শরীয়তের নির্দেশ পালনে সন্তোষ আবশ্যক

চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২১)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

শরীয়তের নির্দেশ পালনে সন্তোষ আবশ্যক
মোটের উপর, শরীয়তের নির্দেশ পালন যেন মানুষের জন্য সহজ সরল হইয়া যায় এবং বলপ্রয়োগে কষ্টে-সৃষ্টে যেন নির্দেশ পালন করিতে না হয়, মানুষের স্বভাব এইরূপ হইয়া যাওয়া উচিত । যে ব্যক্তি তাহার পরিচালন ভার শরীয়তের উপর ছাড়িয়া দিয়াছে এবং বিনা দ্বিধায় সন্দেহে কোন প্রকার বাদানুবাদ না করিয়া মনের আনন্দে সহজ সরলভাবে শরীয়তের নির্দেশ পালন করিয়া চলে, সেই ব্যক্তিই এইরূপ সৎস্বভাব অর্জন করিয়াছে বলিতে হইবে । এইদিকে লক্ষ্য করিয়াই আল্লাহ্ রাসূলে মাক্বূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) কে সম্বোধন করিয়া বলেন : “অনন্তর আপনার প্রতিপালকের শপথ ইহারা মু'মিন হইবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ইহা না হইবে যে, তাহাদের পরস্পরের মধ্যে যে ঝগড়া সংঘটিত হয় উহাতে তাহারা আপনার দ্বারা মীমাংসা করাইবে । অনন্তর আপনার এই মীমাংসায় নিজেদের অন্তরে সঙ্কীর্ণতাবোধ না করে এবং পুরাপুরিভাবে সমর্থন করিয়া লয়” ( সূরা নিসা , রুকু -৯ ) । এই আয়াতে একটি নিগূঢ় তত্ত্ব রহিয়াছে এবং এই ক্ষুদ্র গ্রন্থে ইহার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্ভবপর নহে, তাই অতি সংক্ষেপে সামান্য ইঙ্গিত করা যাইতেছে । ফেরেশতার গুণাবলী অর্জন করাই মানবের পরম সৌভাগ্যের বিষয়, কেননা গুণ ও ধর্ম সম্বন্ধে মানুষ ও ফেরেশতার মধ্যে সাদৃশ্য রহিয়াছে । আলমে মালায়িকাহ্ অর্থাৎ ঊর্ধ্ব আধ্যাত্মিক জগত তাহাদের উভয়েরই উৎপত্তিস্থল । আলমে মালায়িকাহ্ হইতে মুসাফিরের ন্যায় মানুষ এই জড় জগতে আগমন করিয়াছে । সংসারে অবস্থানের দরুন মানুষ সংসারের কতিপয় গুণ সঙ্গে লইয়া স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিবে । এই গুণরাজি ফেরেশতার গুণ হইতে বিভিন্ন হইবে বলিয়া মানুষকে ফেরেশতা শ্রেণী হইতে পৃথক থাকিতে হইবে ৷ তাই মানুষকে যখন আলমে মালায়িকার দিকে প্রত্যাবর্তন করিতেই হইবে তখন নবাৰ্জিত গুণগুলি বর্জন করত ফেরেশতাদের গুণ লইয়াই সেই দেশে যাত্রা করা উচিত ৷ এই জড় জগতে অর্জিত কোন বিজাতীয় গুণ সাথে লইয়া যাওয়া কিছুতেই উচিত নহে । এই জগতে ধন-সম্পদ জমাইবার বাসনা যাহার প্রবল, ধন-সম্পদের প্রতিই সে আসক্ত । আবার যে ব্যক্তি অতিরিক্ত ধন সম্পদ খরচ করিতে লালায়িত সেও ধন সম্পদের প্রতিই অনুরক্ত, আর যে ব্যক্তি স্বীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও অহঙ্কার প্রকাশে আগ্রহান্বিত সেও সাংসারিক ব্যাপারে লোকদের প্রতি আশ্বস্থ না হইয়া পারে না । ফেরেশতাগণ কিন্তু না ধন-সম্পদের প্রতি অনুরক্ত, না লোকদের প্রতি আসক্ত আল্লাহ্ তা'আলার ভালবাসা ব্যতীত অন্য কোন বস্তুর প্রতিই তাঁহারা দৃষ্টিপাত করেন না । মানবেরও তদ্রূপ ধন-সম্পদ এবং লোকদের প্রতি আসক্তি ছিন্ন করিয়া ফেলা উচিত ।

পরবর্তী পর্ব

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক