চরিত্র সংশোধন (১৮) আত্মার উপর কার্যের প্রভাব

চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ১৮)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

আত্মার উপর কার্যের প্রভাব
লেখা কাজটি আসলে আত্মারই কাজ, যদিও অঙ্গুলি দ্বারাই লেখন কার্যটি সম্পন্ন হইয়া থাকে । কোন ব্যক্তি সুন্দর হরফে লিখিতে চাহিলে সর্বপ্রথম বিশেষ যত্নে সুন্দর হস্তাক্ষরের আকৃতি অঙ্কন করিতে বারবার চেষ্টা করিতে হয় । কিছুকাল এরূপ করিতে থাকিলে সুন্দর অক্ষরের আকৃতিগুলি হৃদয়পটে অঙ্কিত হইয়া যায় । ইহার পর তৎসমূদয়ের প্রতি আন্তরিক দৃষ্টি রাখিয়া সেই আঙ্গুলের সাহায্যে হৃদয়স্থিত অক্ষরগুলি কাগজের উপর অঙ্কিত করিয়া দিলেই লিখন কার্যটি সুসম্পন্ন হয় । সেইরূপ মানব হস্তপদাদি বাহ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে সৎকার্য করিতে থাকিলে হৃদয়ফলকে ইহার সাধু চিত্র অঙ্কিত হইতে থাকে । কিছুদিন ক্রমাগত সৎকার্যাদি করিতে থাকিলে এই চিত্রটি হৃদয়ে একটি সুদৃঢ় স্থায়ীভাবে পরিণত হইয়া যায় । মানব এই অবস্থাপ্রাপ্ত হইলে সৎকার্যাবলী তাহার হৃদয়ে অঙ্কিত সাধু ছবিগুলি অনুরূপভাবে অনুষ্ঠিত হইতে থাকে । সুতরাং প্রমাণিত হইল যে, বিশেষ পরিশ্রম সহকারে নিজেকে সৎকার্যে প্রবৃত্ত করিয়া লওয়াই সমস্ত সৌভাগ্যের সূচনা । এইরূপে নিজেকে জোর-জবরদস্তি সৎকার্যে নিয়োজিত করিলে এবং পূনঃ পূনঃ সৎকার্যের অনুষ্ঠান সর্বদা করিতে থাকিলে এই সৎ অভ্যাস হৃদয়ে বদ্ধমূল হইয়া যায় । তখন ইহার নূরও হৃদয় হইতে বাহিরের দিকে বিচ্ছুরিত হইতে আরম্ভ করে এবং ইতঃপূর্বে যে কার্য জোর-জবরদস্তি ও বিশেষ পরিশ্রম সহকারে করিতে হইত তাহা এখন স্বাভাবিক আগ্রহ ও আনন্দের সহিত হইতে থাকে । দেহ ও দেলের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক রহিয়াছে অর্থাৎ দেহ স্বীয় কার্যের প্রভাব দেলে প্রতিফলিত করিতে পারে, এবং দেলও আপন ভাবের আলোক বা অন্ধকার দেহের উপর বিস্তার করিতে পারে, এই কারণেই উক্ত বিস্ময়কর ঘটনা সংঘটিত হইয়া থাকে । এইজন্য আনমনা হইয়া কোন কার্য করিলে ইহার প্রতিফল নিতান্ত নগণ্য হইয়া যায় ।

পরবর্তী পর্ব

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক