চরিত্র সংশোধন (২০) দৈহিক প্রকৃতির দুইটি প্রান্ত
চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ২০)
দৈহিক প্রকৃতির দুইটি প্রান্ত আছে
একটি শীতল, অপরটি উষ্ণ এই দুই প্রান্তের উভয়টিই মন্দ এই দুই প্রান্তকে দুই পার্শ্বে রাখিলে ঠিক মাঝখানে একটি নাতিশীতোষ্ণ মধ্যস্থান বা মধ্যপথ রহিয়াছে । হৃদয়ের স্বভাবের অবস্থাও ঠিক তদ্রূপ ইহারও দুইটি প্রান্ত ও একটি মধ্যপথ আছে । এই মধ্যপথ অবলম্বন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা ধন দান করিবার জন্য কৃপণকে আদেশ দিয়া থাকি । কিন্তু এই দানেরও একটা সীমা আছে । যে পর্যন্ত দান করা তাহার পক্ষে সহজ ও কোন কষ্টের কারণ না হয়, সেই পর্যন্ত দান করাই তাহার পক্ষে উচিত, নিজের যথাসর্বস্ব দান করিয়া পরের ভারস্বরূপ এবং অপচয়ের অপরাধে অপরাধী হওয়া উচিত নয় । চিকিৎসাশাস্ত্র যেরূপ দৈহিক রোগে ঔষধের মাত্রা ঠিক করিয়া দিয়াছে । যে পরিমাণ দান করিবার আদেশ শরীয়তে রহিয়াছে, হৃষ্টচিত্তে সেই পরিমাণ দানে মানুষের অভ্যস্ত হওয়া উচিত এবং ইহার বিরুদ্ধাচরণে কৃপণতা করা কিছুতেই তাহার পক্ষে সঙ্গত নহে । তদ্রূপ যাহা খরচ করিতে শরীয়ত নিষেধ করিয়াছে, তাহার ব্যয় করিবার কল্পনাও হৃদয়ে স্থান দেওয়া সঙ্গত নহে । এইরূপে শরীয়তের আদেশ-নিষেধ অনুসরণ করিলেই অন্তরের সাম্যভাব রক্ষিত হইবে ।
শরীয়তের আদেশ-নিষেধ অনুসারে চলিতে যাহাদের হৃদয়ে আগ্রহ ও আসক্তি নাই, বরং অনেক চেষ্টা চরিত্র করিয়া নিজকে ধরিয়া বাঁধিয়া শরীয়তের আদেশ পালন করিতে হয়, মনে করিতে হইবে যে, তাহাদের হৃদয় রোগাক্রান্ত । কিন্তু তাহাদের রোগ তত মারাত্মক ও জঘন্য নয় । জোরজবরদস্তি কায়ক্লেশে শরীয়তের আদেশ পালন করিতে থাকিলেই এই রোগে আরাম হইবে এবং পরিশেষে উহাই তাহাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল ও স্বভাবগত হইয়া যাইবে । এইদিকে লক্ষ্য রাখিয়াই রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, “মনের খুশী ও আনন্দের সহিত আল্লাহ্'র আদেশ পালন কর । তাহা যদি না পার তবে বল প্রয়োগে কষ্টে-সৃষ্টেই ইহা পালন কর । এইভাবে পালন করিলেও বহু সওয়াব পাইবে ।”
যে ব্যক্তি অনিচ্ছায় কষ্টে-সৃষ্টে দান করে তাহাকে দাতা বলে না । যে ব্যক্তি মনের খুশী ও আনন্দে, সহজ ও সরলভাবে দান করে তাহাকেই দাতা বলে । কিন্তু যে ব্যক্তি বহু চেষ্টা ও যত্নে স্বীয় ধনের হেফাযত করে এবং অপচয় করে না, তাহাকে কৃপণ বলা চলে না । বরং ধন জমাইয়া রাখাই যাহার প্রকৃতিগত হইয়া গিয়াছে এবং কিছু ব্যয় করিতে চাহিলেই প্রবৃত্তি তাহাকে বাধা প্রদান করে, ফলে সে পরাজিত হইয়া আর ব্যয় করে না, তাহাকে কৃপণ বলা হইয়া থাকে ।
পরবর্তী পর্ব

Comments
Post a Comment