চরিত্র সংশোধন (১১) অভ্যাসে স্বভাবের বিকৃতি


চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ১১)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

অভ্যাসে স্বভাবের বিকৃতি
চৌর্যবৃত্তিকে সকলেই অবজ্ঞা করিয়া থাকে । কিন্তু চুরি কার্যে কেহ অভ্যস্ত হইয়া গেলে ইহাই তাহার নিকট প্রিয় হইয়া উঠে । এমন নিপুণ চোরও আছে যে চৌর্যবৃত্তির শাস্তিস্বরূপ বেত্রাঘাত বা হস্তকর্তনের দুঃসহ যাতনা ভোগ করিয়াও নিজের বাহাদুরী প্রকাশ করিতে থাকে । নপুংসক লোকেরা হীন অপকর্ম করিয়া একজন অপরজন অপেক্ষা নিজের জঘন্য কার্যের জন্য গৌরব করিয়া থাকে । সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, আলিম, আমীর-ওমরা ও বাদশাহগণ যেরূপ উৎকৃষ্ট কার্যে গৌরব অনুভব করিয়া থাকেন, নিকৃষ্ট ব্যক্তিগণ ঠিক সেইরূপ অপকর্মে তাহাদের দক্ষতা ও পটুতার বাহাদুরী করিয়া থাকে । দীর্ঘকালের অভ্যাসের দরুনই এইরূপ হইয়া যায় । আরও অনুধাবন কর, মানুষ মাটি খায় না; ইহা তাহার স্বভাববিরুদ্ধ । কিন্তু কোন ব্যক্তি মাটি খাইবার অভ্যাস করিলে ক্রমে তাহার এই অবস্থা হয় যে, মাটি না পাইলে সে অতিষ্ঠ হইয়া উঠে । মৃত্তিকা ভক্ষণে কঠিন পীড়ার সম্ভাবনা থাকিলেও সে ইহা হইতে বিরত হয় না । মৃত্তিকা ভক্ষণের মত মানবস্বভাববিরুদ্ধ কার্য অভ্যাসের ফলে তাহার স্বভাবে পরিণত হইয়া যায় । এমতাবস্থায়, যাহা তাহার স্বভাব অনুযায়ী এবং তাহার জন্য পানাহারতুল্য তাহা নিয়মিতরূপে অহরহ অভ্যাস করিলে কেন ইহা মানবস্বভাবে পরিণত হইবে না ?

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক