চরিত্র সংশোধন (৫) স্বভাবের শ্রেণী বিভাগ



চরিত্র সংশোধনের সাধনা ও কুস্বভাব বর্জনের উপায়- (পর্ব - ৫)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

স্বভাবের শ্রেণী বিভাগ
মানুষের স্বভাবকে প্রধানত চারি ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে।
প্রথম শ্রেণী- যাহার প্রত্যেকটি মানসিক বৃত্তি পূর্ণভাবে বিকশিত ও স্ফুর্ত হইয়া সর্বাঙ্গ সুন্দর হইয়াছে, তাহার স্বভাবকে প্রথম শ্রেণীর পূর্ণমাত্রার সর্বাঙ্গ সুন্দর বলা হয়। এইরূপ মহাপুরুষের পদাঙ্ক অনুসরণ ও অনুকরণ করিয়া চলা জগদ্বাসীর অবশ্য কর্তব্য। হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেহই, এইরূপ আদর্শ, সর্বাঙ্গ সুন্দর ও উন্নত সৎস্বভাব লাভ করিতে পারে নাই। আল্লাহ তদানীন্তনকালে যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস্ সাল্লামকে সর্বাঙ্গ সুন্দর দৈহিক দান করিয়াছিলেন তদ্রুপ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাঙ্গ সুন্দর মানসিক সৌন্দর্য প্রদান করত চিরকালের জন্য জগতের আদর্শ করিয়া রাখিলেন ।

দ্বিতীয় শ্রেণী- যাহার হৃদয়ের সমস্ত বৃত্তি বা শক্তি পূর্ণমাত্রায় কুশ্রী, তাহার স্বভাবও পূর্ণমাত্রায় জঘন্য ও অসুন্দর । মানব সমাজ হইতে এইরূপ জঘন্য প্রকৃতির লোককে বাহির করিয়া দেওয়া উচিত। সে মানবরূপী শয়তান। শয়তানের অন্তর ও মানসিক বৃত্তিগুলি পূর্ণমাত্রায় জঘন্য এবং এইজন্যই সে এতদূর কদর্য ও মন্দ হইয়াছে ।

তৃতীয় শ্রেণী পূর্ণমাত্রায় কুস্বভাব ও পূর্ণমাত্রায় সস্বভাব এতদুভয়ের মধ্যবর্তী , কিন্তু পূর্ণমাত্রায় সৎস্বভাবের অধিকতর নিকটবর্তী স্বভাবকে তৃতীয় শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

চতুর্থ শ্রেণী পূর্ণমাত্রায় কুস্বভাব ও পূর্ণমাত্রায় সৎস্বভাবের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় কুস্বভাবের অধিকতর নিকটবর্তীটিকে চতুর্থ শ্রেণীর স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
সাধারণত দেখা যায়, মধ্যবর্তী সুশ্রী ও মধ্যবর্তী কুশ্রী লোক জগতে অধিক; শারীরিক সৌন্দর্যেও পূর্ণমাত্রায় সুশ্রী বা পূর্ণমাত্রায় কুশ্রী লোক অত্যন্ত বিরল । স্বভাব সম্বন্ধেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যায় না। পূর্ণমাত্রায় সৎস্বভাব জগতে অতি বিরল হইলেও ইহার নিকটবর্তী ভাল স্বভাব অর্জনের জন্য প্রতিটি নর-নারীকে আপ্রাণ চেষ্টা করা অবশ্য কর্তব্য । স্বভাবের প্রতিটি বৃত্তিকে সুশ্রী করিতে না পারিলেও অধিকাংশগুলিকে সুশ্রী করিবার চেষ্টা করা উচিত । শারীরিক সৌন্দর্য ও কদর্য মূর্তির মধ্যস্থলে যেমন কোন বিভাগ চিহ্ন নাই , সৎস্বভাব ও মন্দস্বভাবের মধ্যেও সেইরূপ কোন স্পষ্ট সীমারেখা নাই । সস্বভাবের শাখা-প্রশাখা অসংখ্য। তথাপি উহাদিগকে চারি শ্রেণীতে ভাগ করা যাইতে পারে । যথা : - (১) জ্ঞানশক্তি বা বুদ্ধি, (২) শাসনশক্তি বা ক্রোধ, (৩) কামশক্তি বা লোভ এবং (৪) এই তিনটি বৃত্তির প্রত্যেকটিকে অপরের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিবার বিচারশক্তি। এই চারি শ্রেণীর শক্তিই মানব স্বভাবের মূল শাখা । উহা হইতে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বহির্গত হইয়াছে ।

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক