তওবার মকাম - (পর্ব- ১)-- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)


 তওবার মকাম - (পর্ব-  ১)
📚মিনহাজুল আবেদীন -- ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) 

আল্লাহর ইবাদতে যিনি মশগুল হতে চান, তাঁকে অবশ্যই তওবা করে নিতে হবে। ইবাদতে ইলাহীতে মশগুল হওয়ার জন্য তওবা জরুরী ও অতীব প্রয়োজনীয়। দুটো কারণে এ তওবার প্রয়োজন হয়। 

প্রথমত, গুনাহ্ মানুষকে দুর্ভাগ্য ও বঞ্চিত অবস্থায় নিপতিত করে, অতঃপর তা দুর্ভোগ ও অপমানের দিকে ঠেলে দিতে থাকে। শুধু তাই নয়, গুনাহর আকর্ষণ মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে ও তাঁর ইবাদতে এগিয়ে যেতে বাধার সৃষ্টি করে। কেননা গুনাহর বোঝা বান্দাকে এমনি অবস্থায় পৌঁছিয়ে দেয় যে, সে তা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর পথের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া, গুনাহ্ মানুষের কলবকে কালো করে দেয়, ফলে তার অন্তরে জুলমাত আর পাষাণত্ব ঘাঁটি স্থাপন করে। অতঃপর তার মধ্যে সততা, হৃদয়বত্তা ও আল্লাহ্ পথে চলার স্বাদ ও মধুরতা উপভোগের ক্ষমতা ও আর অবশিষ্ট থাকে না। এ সময় তার উপর যদি আল্লাহর রহমতের ছায়া বিরাজমান না থাকে, তবে সে কুফরী ও কহরের চরম অবস্থায় নিমজ্জিত হতে থাকে। আর এ তো চরম তাজ্জবের বিষয় যে, যে ব্যক্তি কুফরী ও কহর অবস্থায় নিপতিত, সে কি করে ইবাদতে ইলাহীর তৌফিক হাসিল করবে; যে ব্যক্তি গুনাহর পংকিলতায় নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছে, সে কি করে ইবাদত ও খেদমতের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে? তেমনি যে ব্যক্তি পাপ-পংকিলতার ঘৃণ্য অবস্থায় পতিত হয়েছে, তার পক্ষেই বা মুনাজাতে ইলাহী কি করে করা সম্ভব?

রসূলুলাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :

“বান্দা যখন মিথ্যা বলে, তখন তার হেফাজতকারী ফেরেশতাগণ তার মুখ - নির্গত দুর্গন্ধ সইতে না পেরে দূরে চলে যায়”।

এরপর সেই জবানের কি আর আল্লাহর যিকিরের যোগ্যতা থাকে? গুনাহতে লিপ্ত ব্যক্তি তো আল্লাহর সেই তৌফিকের নিকটবর্তী ও হতে সক্ষম নয়, যার দ্বারা আল্লাহর ইবাদতের জন্য তার কাজে সাহায্য হতে পারে। আর যদি তৌফিক হাসিলও হয়, তবুও তা বিশেষ কার্যকর হয় না। কেননা তার মধ্যে সততা ও ইবাদতের স্বাদ গ্রহণের যোগ্যতাই তো বিদ্যমান নেই। পাপে লিপ্ত হওয়া এবং তওবা না করার জন্যই মানুষকে এতো সব দুর্ভাগ্য ও ধ্বংসাত্মক জিনিসের সম্মুখীন হতে হয়। এ জন্যই কোন এক  ব্যক্তি ঠিকই  বলেছেন : 

তুমি যখন রাতে ইবাদত ও দিনে রোযা রাখার শক্তি পাবে না, তখন বুঝে নেবে যে, তুমি কমজোর এবং আলসে হয়ে গেছ – তোমার গুনাহ্ই তোমাকে - এমন কমজোর করে দিয়েছে এবং এতসব অবাঞ্ছনীয় বিষয়ের সম্মুখীন করেছে। 

তোমার ইবাদত যাতে কবূল হয় সেজন্য ও তওবা জরুরী। তওবার প্রয়োজনীয়তার এটা দ্বিতীয় কারণ। কেননা যে ব্যক্তির নিকট তুমি ঋণী সে তোমার উপঢৌকন কবূল করবে না : তাছাড়া গুনাহ্ করলে তা স্বীকার করা ও তজ্জন্য তওবা করা ফরয ও অপরিহার্য কর্তব্য। আর, অন্যান্য ইবাদত হলো নফল। সুতরাং যতক্ষণ তুমি ফরযরূপী ফরযকেই আদায় কর নাই, তখন কি করে তুমি আশা করতে পার যে, উপঢৌকনরূপী তোমার নফল ইবাদত কবুল হবে?

অতএব যারা হালাল ও জায়েয কাজকে পরিত্যাগ করে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত রয়েছে, তারা কি করে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করবে? তিনি যখন তোমার প্রতি নারায (আল্লাহ্ যেন এমন না করেন), তখন মুনাজাতে লিপ্ত হয়ে কি লাভ ? যারা সব সময় গুনাহতে লিপ্ত থাকে, তাদের অবস্থাই এমন হয়ে থাকে।


তওবার অর্থ ও শর্তাবলী

Comments

Popular posts from this blog

চরিত্র সংশোধন (১৩) আন্তরিক ব্যাধির ঔষধ ও প্রয়োগ বিধি

চরিত্র সংশোধন (১০) কুম্বভাবের প্রতিষেধক

চরিত্র সংশোধন (৮) ক্রোধ ও লোভকে আজ্ঞাবহ রাখার প্রতিবন্ধক